• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মেহেরপুরে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর চাষে সফলতা

  শাকিল রেজা, মেহেরপুর

০৬ আগস্ট ২০১৯, ২১:৪৯
মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর
মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর খালাচ (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের (বিরি) উদ্যোগে মেহেরপুরের মুজিবনগরে পরীক্ষামূলক ভাবে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর চাষে সফলতা এসেছে। পরীক্ষামূলক ভাবে তৈরিকৃত বাগানে এ বছর ২০টি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে খেজুর। চলছে সরকারের মাধ্যমে চারা তৈরির প্রক্রিয়া।

মাটির গুণগত মান ও আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে মুজিবনগরে সৌদি আরবের খেজুর চাষ শুর হয়। ‘মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কুষ্টিয়া কেন্দ্র মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স চত্বরে ২০১৪ থেকে খেজুরের চাষ শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার, ওমান, দুবাই, ইরান, সৌদি, সুদান থেকে আজওয়া, আম্বার, লুলু, খালাছ, ডেগলেটনুর, কালমি, মাকতুম, ছুক্কারি, বাহারী ও মারইয়াম ১০টি জাতের বীজ নিয়ে আসেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কুষ্টিয়া। 

(ছবি : দৈনিক অধিকার)

খেজুর গাছ পরিচর্যা করছেন মহিদুল ইসলাম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বীজ বপন করা হয় কুষ্টিয়া সেচ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। সেই বীজের দুই হাজার চারা রোপণ করা হয় মুজিবনগর কমপ্লেক্সে। বপনের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বেশকিছু গাছে ফলও আসে। মধ্যপ্রাচ্যে ফলের যে মান ও স্বাদের হয়, সেই মানের ফলই গাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে মুজিবনগর কমপ্লেক্সে চাষ করা খেজুর গাছ থেকে।

মুজিবনগরে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রায় ২০টি জাত নিয়ে শুরু হয়ে থাকে এ চাষ। খেজুর আবাদ করে সেই গাছে ফল আসায় এ ফল উৎপাদনের দ্বার খুলতে যাচ্ছে কৃষি বিশেষজ্ঞরা। খেজুর চাষে সফলতা পাওয়ায় কয়েকটি জাত বাছাই করে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কৃষি বিজ্ঞানীরা। 

কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন মেহেরপুরের মুজিবনগরে সৌদি আরবের খেজুরের চাষ হচ্ছে। শুষ্ক অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্য। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে মেহেরপুর অঞ্চলের। তারপরও বেলে ও বেলে-দো-আঁশ মাটিতে ভাল জন্মে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে সব ধরণের মাটিতেই খেজুর গাছ চাষ করা যায়। তবে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। 

(ছবি : দৈনিক অধিকার)

মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর লুলু (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট কুষ্টিয়া জোনের আওতায় মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স চত্বরে খেজুর বাগানের তত্বাবধায়ক মহিবুল ইসলাম বলেন, খেজুরের চারা রোপণ করতে হলে তিন ফুট গভীর ও তিন ফুট লম্বা এবং তিন ফুট আড়াআড়ি গর্ত বানাতে হবে। উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে দিতে হবে। গর্তের মাটি ১-২ দিন রোদে শুকিয়ে নিলে ভালো হয়। পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মাটির সঙ্গে গুড়া বিষ মেশাতে হয়। 

তিনি বলেন, প্রতিটি গাছের গোড়ায় ৮-১০ কেজি গোবর সার মেশাতে হবে। চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পরে মিশ্র সার গাছের কমপক্ষে ২ থেকে ৩ ফুট দূরে মাটিতে দিতে হয়। পানি স্প্রে করতে হবে। চারা রোপণের পর চারার গোড়া যেন শুকিয়ে না যায় আবার অতিরিক্ত পানিতে যেন কাদা না জমে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের দূরত্ব হবে ১৫ থেকে ২০ ফুট। দিনে কমপক্ষে ৫-৮ ঘণ্টা যাতে রোদ থাকে এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে। তাতে গাছের বৃদ্ধি ও রোগ-বালাই কম হবে। একর প্রতি ১০০ থেকে ১৫০টির বেশি গাছ রোপণ করা যাবে না।

খেজুর চাষে সফলতা আসার বিষয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর চাষ করা প্রায় সাত বছরের নিচে ফল আসে না। কিন্তু মুজিবনগরের মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় তিন বছরের মাথায় ফল এসেছে। ফল ধরার সাত মাস পর এই খেজুর পারা যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামান জানান, এখন পর্যন্ত মেহেরপুরের মাটিতে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুরের চাষ ভালো হচ্ছে। এখানকার আবহাওয়া ও মাটি খেজুর চাষের জন্য উপযোগী। এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে কীভাবে আরও ভালো করা যায় এবং এখান থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।  

ওডি/এএসএল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড