• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

নরসিংদীতে ১৬৬ কোটি টাকার লটকন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা

  নরসিংদী প্রতিনিধি

১৩ জুলাই ২০১৯, ০৮:৫০
লটকন
লটকন (ছবি : সংগৃহীত)

নরসিংদীর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এক সময়ের অপ্রচলিত ফল লটকন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রফতানি হওয়ায় অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে লটকনের। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ায় লটকন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমে ১৫৮০ হেক্টর জমিতে ২৩ হাজার ৭ শত মেট্রিকটন লটকনের ফলন পাওয়া যাবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ। উৎপাদিত এ লটকন বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপপরিচালক শোভন কুমার ধর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগ জানায়, প্রায় ত্রিশ বছর আগে প্রথম বেলাবো উপজেলার লাখ পুর গ্রামে লটকনের আবাদ শুরু হয় । এরপর থেকে বেলাবো ও  শিবপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লাল মাটির এলাকায় লটকন চাষের প্রসার ঘটতে থাকে।  মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ও পুষ্টি গুণ সমৃদ্ধ লটকনের চাহিদা বাড়তে থাকে। ব্যাপক চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই লটকনের চাষ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বেলাবো উপজেলায় গত ৩০ বছরে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। দুই উপজেলায় প্রায় প্রতিটি পরিবারের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এখন লটকন। লটকন চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর পাশাপাশি বেকার সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছে অনেকে। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, শিবপুর উপজেলার লাল রঙের উঁচু মাটিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এখানকার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এছাড়া রায়পুরা উপজেলার কিছু কিছু এলাকার মাটি ও লটকন চাষ এর উপযোগী। গাছের গোড়া থেকে শুরু করে প্রধান কাণ্ডগুলোতে ছড়ায় ছড়ায় ফলন হয় এই লটকনের।

 নরসিংদীর লটকন খেতে সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় এর কদর বেড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে নরসিংদীর এই সুস্বাদু ফল লটকন। ফলের বেচাকেনা ঘিরে জেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রায়পুরার মরজাল ও শিবপুর উপজেলা সদরে বসেছে লটকনের বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ক্রেতারা এসে এসব বাজার থেকে লটকন কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে এসব লটকন হাতবদল হয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশের বাজারেও। অনেকে সরাসরি জমি থেকে সরবরাহ করে রপ্তানি করছেন  বিদেশের বাজারে।

জয়নগর গ্রামের রাজীব মিয়া বলেন, লটকন হলো কম খরচে লাভজনক একটি ফসল। লটকন বাগান শুরু করতে প্রথমে খরচ বেশি হলেও পরবর্তীতে বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয় না। 

একই গ্রামের লটকন চাষি সুলতান মিয়া বলেন, স্থানীয় বাজার ছাড়াও লটকনের ফলন ধরার পর জমিতেই পাইকারি বিক্রি করে দেয়া যায়। পাইকাররা এসব লটকন দেশে বিদেশের বাজারে পাঠিয়ে থাকেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে।

উপপরিচালক শোভন কুমার ধর বলেন, লটকন চাষ বৃদ্ধিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চারা উৎপাদন করাসহ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারে রফতানি হওয়াতে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। চলতি মৌসুমে ১৫৮০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১৫ মেট্রিকটন ফলন হিসেবে লটকনের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ হাজার ৭০০ মেট্রিকটন যার পাইকারি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ১৬৫ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।

ওডি/এসজেএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড