• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আমের রাজ্যে বেবি তরমুজের স্বপ্ন

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

০৪ জুলাই ২০১৯, ১৬:০১
শফিকুল ইসলাম
বেবি তরমুজ চাষি শফিকুল ইসলাম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

প্রায় ১৫ বছর কাপড়ের ব্যবসা করেছেন। তবে তা থেকে বড় কিছু করতে পারেননি। তিনি স্বপ্ন দেখছেন কৃষি কাজ করে জীবনে কিছু একটা করবেন। নিজের জমি না থাকায় অনের‌্য জমি লিজ নিয়ে ধান চাষ শুরু করেন। কিন্তু ধানের যে দাম তাতে জমি চাষে যে টাকা খরচ হয় তা উঠানোই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিকল্প পথ বেছে নেন তিনি। অন্য কোনো ফসল করা যায় কি না এমন ভাবনা থেকে পরিচিত হন বারমাসি তরমুজ চাষের বিষয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে তরমুজের চাষ করে তা থেকে লাভবান হওয়া যাবে এটা ভাবাই যায় না। তবুও সেই ভাবনাকে বাস্তবে রুপ দেন শফিকুল ইসলাম। ২০ শতক জমিতে লাগান তরমুজের বীজ। 

চাড়ালডাঙ্গা মোড় থেকে উত্তর দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রাস্তার বাম পাশে শফিকুল ইসলামের তরমুজের ক্ষেতটি। জমিতে গিয়ে দেখা যায় কালো রঙয়ের অনেক তরমুজ ঝুলে রয়েছে। শফিকুল ইসলামের প্রতিবেশী এরফান আলী ও এনামুল হক জানান, প্রথমে যখন শফিকুল তরমুজের গাছ লাগাই তখন আমরা বলছিলাম টাকা নষ্ট করতে গেল। কিন্তু যখন ফলন আসলো তখন আমরা অবাক হই। আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছে না আমাদের এলাকায় তরমুজের এত ফলন হতে পারে। এখন মনে হচ্ছে আমরাও তরমুজের চাষ না করে ভুল করেছি। তবে আগামী বছরে তারাও তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান তারা। 

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেবি তরমুজের (হাইব্রিড এফ-ওয়ান) বীজ রোপণ করেন তিনি। আর এই কাজে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক সহায়তায় শফিকুল ইসলামকে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়। গত মাসের ২০ জুন থেকে বাজারে তরমুজ বিক্রি শুরু করেন। সেই তরমুজ বিক্রি করে এবার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম। 

শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমবার চাষাবাদ করায় একটু সমস্যা হয়েছে। পুরো জমিতে তিনি মালচিং পেপার ব্যবহার করেননি। যেটুকুতে মালচিং পেপার ব্যবহার করেছেন সেই টুকুতে ফলন ভালো হয়েছে। তিনি আশা করছেন, সঠিকভাবে পরিচর্যা নিতে পারলে আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন। তাই এবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণে তরমুজের চাষাবাদ করবেন। তাকে প্রয়াসের কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ করিম ও পিএ টেকনিক্যাল রুহুল আমিন তরমুজ চাষের পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন বলেও জানান তিনি। 

গোমস্তাপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেনে জানান, এর আগে রহনপুরে এক চাষি তরমুজ চাষ করলেও তিনি শফিকুলের মতো সফল হতে পারেননি। 

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে বেশ কিছু আগ্রহী চাষি শফিকুল ইসলামের জমি পরিদর্শন করেছেন। আমরাও চাই ধান চাষের পাশাপাশি এই ধরনের চাষে চাষিরা এগিয়ে আসুক। কারণ ধান চাষে পরিশ্রম বেশি, খরচ বেশি কিন্তু লাভ কম। তবে তরমুজ চাষে পরিশ্রম কম লাভ বেশি। আমরা আগামী বছর এই জাতের তরমুজ প্রদর্শনী আকারে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে করতে চাই। যাতে এটি চাষে চাষিরা আরও বেশি এগিয়ে আসে। 

কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন আরও জানান, পূর্নভবা নদীর পানিতে কিছুটা পলি মাটি থাকে যার কারণে এই এলাকার মাটি বেশ উর্বর। রাধানগরে এবারই প্রথম তরমুজের চাষ হলো। এই এলাকায় তরমুজ চাষের একটা ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ধান চাষের পাশাপাশি এই ধরনের চাষে যারা এগিয়ে আসছেন তাদের আমরা উৎসাহিত করছি। 

ওডি/এসজেএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড