• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

ময়মনসিংহে ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের 

  ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

২০ মে ২০১৯, ২০:২৮
ড্রাগন ফল
লাভজনক ড্রাগন ফল চাষ (ছবি- দৈনিক অধিকার)

ময়মনসিংহের নান্দাইলের প্রত্যন্ত এলাকায় চাচা ও ভাতিজার লাভজনক ড্রাগন ফল চাষ দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের প্রয়াত আহম্মদ আলী খানের ছেলে মোখলেছুর রহমান খান ও তারই ভাতিজা মুরাদ খান প্রথমে শখের বসে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। পরে এক সময় শখকে নেশায় পরিণত করেন তারা। নেমে পড়েন লাভজনক ড্রাগন চাষে। তাদের এ আগ্রহ দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরা ড্রাগন চাষে ক্রমেই উৎসাহী হচ্ছেন। নান্দাইলে তারাই প্রথম আমোদপুর গ্রমের নিজ বাড়ির সামনে ৪০ শতাংশ জমিতে ১ হাজার ৫৬টি ড্রাগন চারা রোপন করেছেন।

সরজমিনে দেখা যায়, কংক্রিট-সিমেন্টের পিলারের চারদিক ঘিরে ৪টি করে চারা রোপন করে ২৫৬টি পিলারের মাধ্যমে এ বাগান তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের টেকসই মাচা হিসাবে বাঁশের পরিবর্তে গাড়ির পুরাতন টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিদিনই ড্রাগন বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন চাষী মোখলেছুর রহমান খানের ভাই বাবুল খান।

চাষী বাবুল খান জানান, ভাই মোখলেছুর রহমান প্রথমে সখে ড্রাগন চাষ করলেও পরে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের চিন্তাকরে ব্যাপক চারা রোপন করেন। প্রতিটি চারা একশত টাকা থেকে দেড়শত টাকায় কিনে রোপন করেছেন। একটি ড্রাগন গাছ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বৎসর পর্যন্ত ফলন দেয়। চারা রোপনের দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসে। এপ্রিলের মাঝামাঝি গাছে ফুল দেখা দেয়। তবে সেই ফুল রাতে ফুটে আবার বৃষ্টি হলে নষ্ট হয়ে যায়। জুলাই-আগস্ট মাস হচ্ছে ফল মৌসুম। প্রতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০টি ফল আসে।

প্রতি পিলারের ৪টি গাছ থেকে ২০ থেকে ৩০কেজি ফল সংগ্রহ করা যায়। দেশের বাজারে এর ভালো দামও রয়েছে। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৫শ টাকা থেকে ৬শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। 

চারা উৎপাদন ও ফল বিক্রির বিষয়ে চাষী মুরাদ খান বলেন, গাছের কান্ড থেকে এর চারা সহজেই রোপন করা যায়। বিদেশে এ ফলের বেশ চাহিদা আছে। বাংলাদেশি টাকায় ১৪শ থেকে ১৫শ টাকা কেজি এ ফল বিদেশে বিক্রি হয়। 

চাষী মোখলেছুর রহমান খান জানান, ড্রাগন চাষ ব্যয়বহুল হলেও লাভজনক। প্রথম এক থেকে দেড় বছর লাভের মুখ দেখা যায়না। তবে ড্রাগন ফল চাষের পাশাপাশি বাগানে অন্যান্য ফসলও চাষ করা যায়। 

তিনি আরও বলেন, প্রথমে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। নান্দাইলের বিভিন্ন জায়গা থেকে অন্যান্যরা এর চাষ দেখতে এবং এ ফল ও চারা কিনতে আসছে। আশা করি ড্রাগন চাষ করে স্বাবলম্বী হতে পারবো। 

নান্দাইল উপজেলা কৃষি অফিসার নাসির উদ্দিন জানান, কৃষকরা এরকম নতুন নতুন ফসল চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছে। আমরা তাদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও সহযোগীতা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

ওডি/এসএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড