• মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন

পানি সঙ্কটে কৃষক

  বাগেরহাট প্রতিনিধি

২০ মে ২০১৯, ১৯:৩৭
স্লুইস গেট
স্লুইস গেট (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য অধিকাংশ স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় উপজেলা জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সঙ্কট। এমন অবস্থায় পানির অভাবে চাষাবাদ ও কৃষি কাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ করতে উপজেলার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা জুড়ে এমন অবস্থা বিরাজ করলেও সমস্যা সমাধানে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের কোলঘেষে অবস্থিত দেশের সর্বদক্ষিণের উপজেলা শরণখোলার অবস্থান। চতুরদিক থেকে বেষ্টিত ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ১৯৮৪ সালে ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ৩০টি স্লুইস গেট নির্মাণ করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ওইসব গেইটের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ করে এ অঞ্চলের জনগণ কৃষি কাজের পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন কাজ কর্মে পানির চাহিদা মিটিয়ে আসছেন। 

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ধীরে ধীরে অধিকাংশ গেইট অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পাশাপাশি উত্তাল ভোলা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেখানে বসতি গড়ে তোলেন স্থানীয়রা। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন রেকর্ডকৃত খাল, বিল, নালা, ডোবা দখলদারদের কবলে চলে যাওয়ায় পানির অভাবে এ অঞ্চলের কৃষকদের কৃষি কাজ বন্ধের উপক্রম হয়ে উঠে। 

অন্যদিকে সচল থাকা ২-৪টি স্লুইস গেট থেকে পানি নিষ্কাশন হলেও শুষ্ক মৌসুমে খালের মাথা পর্যন্ত তা পৌঁছায় না। এছাড়া পাউবোসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের তদারকির অভাবে পানির সঙ্কট দিনদিন বাড়তে থাকে। অপর দিকে, ২০১৬ সালে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫/১ পোল্ডারে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন চায়নার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার ফলে পুরানো গেইট গুলো নতুন করে নির্মাণ শুরু করলে পানি শূন্যতা আরও বৃদ্ধি পায়। 


পানি সঙ্কটের বিষয়ে উপজেলার রাজৈর এলাকার বাসিন্দা কৃষক হানিফ শেখ বলেন, বেড়িবাঁধের নির্মাণ কাজের জন্য দীর্ঘদিন ধরে গেইটগুলো বন্ধ। তাই নদী থেকে খালগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করতে পারছে না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও গেটগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোন ভূমিকা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

এছাড়া খাল-বিল, ডোবা, নালা ও জলাশয়গুলোতে পানি না থাকায় গত কয়েক বছর ধরে সামান্য কিছু সবজি চাষাবাদ করলেও তার আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলমান থাকলে উপজেলার কৃষি ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

এ ব্যাপারে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের বাংলাদেশের পক্ষে তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার দত্ত জানান, পুরনো স্লুইস গেট গুলো নতুন করে নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই ওই গেইট গুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে। 

পানি সঙ্কটের কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার জানান, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য কিছু স্লুইস গেট বন্ধ করতে হয়েছে। তাই উপজেলা জুড়ে পানির অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শীঘ্রই এ সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

ওডি/এএসএল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড