• সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন

সরকারকে চাল রপ্তানির প্রস্তাব; খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত

চাল

দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল উদ্বৃত্ত থাকায় ব্যবসায়ীরা সরকারকে চাল রপ্তানির প্রস্তাব জানিয়েছেন।  তাদের মতে, এ সময় চাল রপ্তানি না করা হলে দেশের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা সরকারের কাছে দেড় থেকে দুই লাখ টন চাল রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে চাল ব্যবসায়ীদের সংগঠন-বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এ সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেয় ।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ‘কৃষকের স্বার্থে আমরা চাল রপ্তানির অনুমতি চেয়েছি। গত দুই বছর দেশে চালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারও বাম্পার উৎপাদন হবে বলে আমরা আশা করছি। সারাবছর আমাদের চাহিদা সাড়ে তিন কোটি টনের মতো। কাজেই বাড়তি ৫০ লাখ টন চালের মধ্যে মাত্র দুই লাখ টন চাল রপ্তানির অনুমতি চেয়েছি।’ 

তিনি আরও জানান, আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে চলতি মৌসুমের চাল সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। সরকার এ বছর ৩৬ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেনোনা পুরনো চালে গুদাম ভর্তি থাকলে কৃষক ও সরকার উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে গত দুবছর বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারও দেশে ফসলের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা  করা যাচ্ছে। তবে এখানে একটা ঝুঁকিও আছে। কারণ যদি কোনো কারণে দেশের চাল উৎপাদনকারী কোনো এক এলাকায় বছরের একটি ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যেমন- ২০১৭ সালে দেশের হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে চাল সংকটের বিষয়টি এখনও সবার মনে আছে। এছাড়া এখন দেশে এই মূহুর্তে কক্সবাজার এলাকায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। সেজন্য সরকারের এখনও চাল রপ্তানির মতো এই ঝুঁকি নেওয়ার সময় আসেনি। 

আরও জানা গেছে, এই মুহূর্তে কৃষকের কথা বলা হলেও কৃষকের গোলায় আসলে কোনো চাল নাই। কেনোনা আড়তদারদের গুদামেই চাল রাখা আছে। এ জন্য ব্যবসায়ীরা গুদাম খালি করতেই রপ্তানির অনুমতি চেয়েছেন। তারা এর মাধ্যমে বাড়তি মুনাফা করতে চাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৩৬ টাকা কেজি দরে বোরো চাল ও ২৬ টাকা কেজি দরে বোরো ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে এই ধান, চাল ও গম কেনা হবে। খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ প্রসঙ্গে জানান, চলতি বছর সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। তবে গোডাউনে ক্যাপাসিটি থাকলে এর পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। এই চাল সংগ্রহ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে তা আগস্ট পর্যন্ত চলবে। 

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া চাল রপ্তানি প্রস্তাব সম্পর্কে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চাল রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে চাহিদার অতিরিক্ত চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। তারা মনে করছে, এই মুহূর্তে চাল রপ্তানি করা না গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ জন্য তারা মনে করেন, এখন তাদের চাল রপ্তানির অনুমতি প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের এমন প্রস্তাবের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা তাদের দাবিগুলো শুনেছি। আমরা এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো। আসলেই চাল উদ্বৃত্ত রয়েছে কি না, আমরা তা কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানবো। তারপরই আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবো।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতে, গত অর্থবছরে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন চালের উৎপাদন হয়। যদি এরকম ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন হবে ৪ কোটি ৭২ লাখ টন। অন্যদিকে, ২০৫০ সালে ২১ কোটি ৫৪ লাখ লোকের খাদ্য চাহিদা পূরণে ৪ কোটি ৪৬ লাখ টন চালের প্রয়োজন হবে।

তবে সূত্র থেকে জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে বার্ষিক কত টন চালের প্রয়োজন তার কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য সরকারি কোনও দপ্তরে নেই। খাদ্য মন্ত্রণালয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে খাদ্যশস্যর বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু চালের গুদাম, মজুদ, আমদানি ও উৎপাদন তথ্য থাকলেও চাহিদা বা কতটুকু চাল ভোগ করা হয়, সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের কাছে তার কোনো তথ্য নেই।  

ওডি/টিএফ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড