• রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

একের উদ্যোগ, দশের দিশা

  কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১৩
নওগাঁ
কাশ্মীরি কুল চাষে সফল শামসুরে

শামসুর রহমান কলা চাষে ব্যাপক সাফল্যের পরে ৫০ বিঘায় থাই পেয়ারা বাগানের পাশাপাশি ৬ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন কাশ্মীরি বেবি সুন্দরী কুল। এখন পুরো বাগান জুড়ে কাশ্মীরি কুল এবং পেয়ারার লাল-সবুজের সমারহ। কলা ও পেয়ারার মতো বেবি সুন্দরী কাশ্মীরি কুলেও লাভের আশা শামসুরের।

শামসুর রহমানের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার গনেশপুর গ্রামে। তিনি দৈনিক অধিকারকে জানান, ৯ মাস আগে তিনি কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বেবি সুন্দরী কাশ্মীরি কুলের চারা আনেন। এতে তার চারাপ্রতি খরচ পড়ে ৫০ টাকা। ৬ বিঘা জমিতে তিনি প্রায় ৭শ চারা লাগিয়েছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। গাছের বয়স এক বছরের কম সময় হলেও প্রতিটি গাছেই প্রচুর পরিমাণে কুল ধরেছে। প্রথম বছর গাছ প্রতি গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কেজি করে কুল পাবেন বলে তার বিশ্বাস। পরবর্তী বছর থেকে এর পরিমাণ দ্বিগুণ হবে বলে তার প্রত্যাশা।

শামসুর বলেন, এসব গাছ টানা ৬-৭ বছর পর্যন্ত ফল দেবে এরপর ফলন কমতে থাকবে। বর্তমানে এ কুলের দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। তবে তিনি এখনো বিক্রি শুরু করেননি। সপ্তাহখানেক পর থেকে শুরু করবেন। সবমিলিয়ে এ বছর প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার কুল বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

শামসুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিষয়ে অনার্সসহ মাস্টার্স শেষ করে শুরু করেন কৃষি কাজ। এ কাজে তার প্রধান সহযোগী মাস্টার্স শেষ করা স্ত্রী নূরি জান্নাতুন নেছা। শামসুর রহমান ২০০২ সালে অন্যের ১৭ বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রথম শুরু করেন মানিকের (সবরি) কলার আবাদ। এরপর সাগর কলা এবং সবশেষে চিনিচাম্পা কলার চাষ করেও ভালো লাভ করেছেন।

শামসুর বলেন, ছোট বেলা থেকেই কৃষির প্রতি তার আলাদা ভালো লাগা। এজন্য ২০০২ সালে পড়াশোনার শেষ করে অন্যের জমি লিজ ১৭বিঘাতে মানিক (শবরী) কলা চাষের মাধ্যমে তার কৃষিতে পথ চলা।

এরপর পার্শ্ববর্তী আরও কিছু জমি লিজ নিয়ে বড় পরিসরে শুরু করেছেন ফলের বাগান। তিনি এখন ৫০ বিঘাতে পেয়ারার বাগান ও ৬ বিঘা জমিতে করেছেন বেবি সুন্দরী কাশ্মীরি কুলের বাগান। পেয়ারার মতো কুল চাষেও তিনি সফল হয়েছেন।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম দৈনিক অধিকারকে জানান, পানি সেচের সুবিধাযুক্ত রৌদ্রোজ্জ্বল ও উঁচু জমিতে ৫-৬ হাত দূরত্বে কুলের চারা রোপণ করলে এ গাছে তুলনামূলক রোগ-বালাই কম হয়। তবে বাগানে যত বেশি রোদের আলো লাগবে সেই জমির কুল বেশি মিষ্টি হবে।

তিনি বলেন, নতুন করে কেউ যদি কাশ্মীরি কুলের বাগান করতে চান তবে তাকে অবশ্যই সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।

বেকার যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাকরির পেছনে অবৈধ বিনিয়োগ না করে বিঘা প্রতি ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ১ বিঘা জমিতে কুল বাগান করে বছরে দুই লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। কুল চাষেই ঘুরে যেতে পারে একজন বেকার যুবকের ভাগ্যের চাকা।

ওডি/আরবি

jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড