• সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

৩১ বছরে এত নিচে নামেনি চামড়ার দাম

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ আগস্ট ২০১৯, ১৬:১০
কুরবানি
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কেনার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন এতিমখানার ও মাদ্রাসার লোকেরা বিনা পয়সায় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছেন। ঢাকার বাইরে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া মাত্র ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। যা গত বছরও ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৩১ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে পশুর চামড়া। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়ার দাম দিচ্ছেন ২০০ টাকারও কম। এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা।

বিগত বছরগুলোতে নামাজের পরপরই পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর ভিড় দেখা গেলেও এবার তাদের দেখা নেই।

ঈদের দিন সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মানিক নগর, সবুজবাগ, রায়েরবাগর পাড়া-মহল্লা দেখা গেছে, কুরবানি করা বেশিরভাগ পশুর চামড়া রাস্তায় পড়ে আছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত কুরবানি সম্পন্ন হওয়া পশুর চামড়াগুলো কেনার জন্য তখনো কেউ আসেননি।

সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া দাম অনুযায়ী, ঢাকায় কুরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেওয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু রাজধানী ঘুরে জানা গেছে, এবার ফড়িয়া বা মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে না। কোথাও কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্য স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হচ্ছে আরও কম দামে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে মানিক নগর এলাকায় মাওলানা আবদুর রহিম বলেন, আমরা দানের কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করছি। যেহেতু এবার চামড়ার দাম কমে গেছে। এ কারণে মানিক নগর এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা হয়ত চামড়া কিনছে না। ফলে এই এলাকার কুরবানিদাতারা কাঁচা চামড়া দান করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন।

পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়ার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী রইচ উদ্দিন বলেন, এখানেও সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া ৬০০ টাকায় কেনা সম্ভব হয়েছে। ৩১ বছর আগে ১৯৮৯ সালে কুরবানিদাতারা ৭০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করেছেন। এবার সেই মানের চামড়া কেনা সম্ভব হয়েছে ৩০০ টাকারও কম দামে।

রাজধানীর রায়ের বাগ এলাকার বাসিন্দা রূপচান্দ বলেন, অন্য বছর সকাল ১০টার মধ্যে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে থাকেন। কিন্তু, এখন সাড়ে ১১টা বাজে। এখন পর্যন্ত চামড়া কেনার জন্য কোনো লোকজন আসেনি।

মানিক নগর এলাকায় গতবছর কাঁচা চামড়া যারা কিনেছিলেন, তাদের একজন জাবেদ। তিনি বলেন, এবার আমরা চামড়া নিচ্ছি না। বাজার খুব খারাপ। পোস্তার পাইকারি ব্যবসায়ীরা এবার আগে থেকে সাবধান করে দিয়েছেন। লবণ লাগিয়ে মাখিয়ে কয়েকদিন রেখে দিতে বলেছেন। সরকার চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, পোস্তার ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে চামড়ায় ত্রুটি দেখিয়ে সেই দাম দেয় না। এজন্য এত ঝুঁকি নিয়ে চামড়া না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অবশ্য ২০১৮ সালের কুরবানির মতো এবারও চামড়া কিনে যাতে বিপদে না পড়েন, সেজন্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের আগেভাগেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চামড়া খাত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ মৌসুমি বলেন, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেন চিন্তাভাবনা করে এবার চামড়া কেনেন। কারণ, আমরা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি চামড়া সংগ্রহ করছি না। তবে যারা লবণ দেবেন, তাদের কাছ থেকে আমরা চামড়া নেব।

এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারাদেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪, ০১৯০৭৪৮৪৮০০ 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড