• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুরুতেই উদ্যোগের পরামর্শ

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

১৫ জুন ২০১৯, ০০:৫৩
বাজেট
সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট (ছবি- প্রতীকী)

দেশের ইতিহাসে এবারের বাজেট সবচেয়ে বড়। আর এতেই যুক্ত হয়েছে বাজেট বাস্তবায়নের নানামুখী চ্যালেঞ্জ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকে সময়োপযোগী ও বাস্তবায়নযোগ্য বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এই  চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বছরের শুরু থেকেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। খবর- বাসস।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, এ বাজেট গণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অভিযাত্রার পথনকশা এটি। একই সঙ্গে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানান তিনি। বলেন, নতুন ভ্যাট আইন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দেবে।

অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা অর্জন করা সম্ভব। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় অর্জনের ক্ষেত্রে সব সময় চ্যালেঞ্জ থাকে, তাই বছরের শুরু থেকেই যদি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তাহলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। 

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানোয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আলাদা বরাদ্দ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে ব্যাংকিং খাতকে আরও সুশৃঙ্খল করতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা থাকার প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, এ বাজেট দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সহ-সভাপতি গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, ব্যবসা সহজ ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সরকারের এ বাজেটে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সরকারের কিছু পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ব্যবসা সহজীকরণ সূচক, অর্থনৈতিক অঞ্চল গ্রহণ। এসব পদক্ষেপের সুফল তখনই পাওয়া যাবে যদি সেগুলো যথাসময়ে ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়। 

বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের পরিমাণ (ছবি- সংগৃহীত)

গোলাম মাইনুদ্দিন মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে নিয়মিত করদাতাদের ওপর যেন বাড়তি চাপ তৈরি না হয়, সেদিক খেয়াল রাখতে হবে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সহসভাপতি ও জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই উচ্চাভিলাষী নয়। এটি বাস্তবসম্মত। এর জন্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব। উপজেলা পর্যায়ে কর অফিস সম্প্রসারণ করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ, রপ্তানি সম্প্রসারণে প্রণোদনা বাড়ানো এবং বৈধ পথে প্রবাস আয় বাড়াতে রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা দেওয়ার পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

উল্লেখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে জাতীয় সংসদদে। ১৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বড় বাজেট। 

ওডি/এসএ 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড