• বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

খেলাপি ঋণের নতুন সুবিধার ফলে তারল্য সংকট দেখা দেবে: সিপিডি

  অর্থনীতি ডেস্ক

২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৭:৩৪
সিপিডি
সিপিডি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা

খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সুবিধার ফলে ঋণ খেলাপিরা ও দুর্বল ব্যাংকগুলো আরও উৎসাহিত হবে এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তারল্য সংকট দেখা দেবে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।    

বর্তমান সরকারের ১০০ দিন উপলক্ষে সিপিডি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ অভিমত ব্যক্ত করেন।  

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে সব ধরনের চলতি ঋণ, ডিমান্ড ঋণ, ফিক্সড টার্ম লোন অথবা যেকোনো ঋণের কিস্তি তিন মাসের বেশি, কিন্তু ৯ মাসের কম অনাদায়ী থাকলে তা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণ হিসেবে ধরা হবে। আর ৯ মাসের বেশি কিন্তু ১২ মাসের কম অনাদায়ী থাকলে তা ডাউটফুল লোন বা সন্দেহজনক ঋণ হবে। এবং ১২ মাসের বেশি অনাদায়ী ঋণ মন্দ ঋণ হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হচ্ছে ব্যাংকিং ব্যবস্থা। অতীতে আমরা দেখেছি, বড় বড় উদ্যোক্তদের অর্থ  জোগানের ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যবস্থার একটা ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এখন ঋণ খেলাপি এক বড় সমস্যা। সরকারও এটি স্বীকার করছে,ফলে আমরা দেখছি নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, কিন্তু সত্যিকার অর্থে ঋণ খেলাপি না কমিয়ে, সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে এটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।যার ফলে আমরা গুড প্রাকটিস থেকে ব্যাড প্রাকটিস চলে যাচ্ছি।এই সুবিধা দেওয়ার ফলে ঋণ খেলাপিরা উৎসাহিত হবে।দুর্বল ব্যাংকও একই সাথে উৎসাহিত হবে। ফলে তারল্যের ওপর প্রভাব পড়বে। 

আর এর প্রভাবে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ সংকট দেখা দেবে এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের জন্য যখন ব্যাংকের কাছে অর্থ চাওয়া হবে, তখন ব্যাংক যদি অর্থ দিতে না পারে তাহলে আমাদের বিনিয়োগ এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।’ 

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা একটি ব্যাংক কমিশনের কথা বলেছিলাম। আমরা সেটার জন্য কাজ করছি। আমরা সরকারের কাছে বার বার ব্যাংকিং কমিশনের কথা বলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা সেরকম কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এখন আমরা শুধু ব্যাংকিং কমিশন নয়, নাগরিকদের নিয়েও কমিশনের চিন্তাভাবনা করছি। 

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। এসময় খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিন দিন খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমান সরকারের  ১০০ দিনে ব্যাংক খাতের কোনো উন্নয়ন আমরা দেখছি না। সরকারের পক্ষ থেকে ভালো ঋণ গ্রহীতাদের ছাড় দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কারা ভালো ঋণ গ্রহীতা, সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা আসেনি। 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সিপিডি সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।
  
ওডি/টিএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড