• মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে ফুলের চাষাবাদ

বাংলাদেশে ফুলের অভ্যন্তরীণ বাজার ১২০০ কোটি টাকা

  অধিকার ডেস্ক    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪৯

ফুল
ফুলের অভ্যন্তরীণ বাজার বেড়েছে (ছবি: সংগৃহীত)

কথায় আছে, বারো মাসে তের পার্বণের দেশ আমাদের এ বাংলাদেশ। এদেশে একের পর এক উৎসব লেগেই থেকে। আর এসব উৎসবে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ফুল।

দেশে সারা বছরই ফুলের কম-বেশি চাহিদা থাকে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে এ চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে সারাদেশেই ফুলের চাহিদা বেশি থাকে।

জাতীয় কৃষি বাতায়নের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে প্রায় বাণিজ্যিকভাবে সাড়ে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ৫০ জাতের ফুলের চাষাবাদ হচ্ছে। যেখানে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে, যা মোট ফুল আবাদি জমির ৭৪ ভাগ। ঢাকা বিভাগ রয়েছে ২য় স্থানে, যেখানে ৬৯০ হেক্টর বা মোট আবাদের ২০ ভাগ ফুল চাষ হয়। চট্টগ্রাম বিভাগে ১২১ হেক্টর বা ৩ দশমিক ৪৪ ভাগ ফুল চাষ হয় এবং তার অবস্থান ৩য়।

তারা আরও জানিয়েছে,দেশে ফুল উৎপাদন ও বিপণন ব্যবসায় প্রায় দুই লাখ মানুষ জড়িত। এ খাত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন আরও প্রায় ৭ লাখ মানুষ। এই উৎপাদিত ফুল দেশের চাহিদার বেশিরভাগ পূরণ করছে।আর কিছু ফুল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

সম্প্রতি দেশের অন্যতম ব্যবসায়িক সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ‘ফুলের চাষাবাদ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, নব্বইয়ের দশকের আগে দেশে ফুলের চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হতো। আর এখন দেশে উৎপাদিত ফুল দিয়েই চাহিদার ৯০ শতাংশ মেটানো যাচ্ছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ফুলের বাজার মূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দেশে কিছু ফুল আমদানি হলেও বাংলাদেশ এখন ফুল রপ্তানি করছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত রজনীগন্ধা, গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুল মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, দুবাই, কাতার ও আবুধাবিতে রপ্তানি করা হয়।

জানা গেছে, ঢাকা শহরেই প্রায় হাজারখানেক স্থায়ী ও অস্থায়ী ফুলের দোকান রয়েছে। যেখানে প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি হয়।আর বিশেষ দিবসগুলোতে বিক্রি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সূত্র থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালে দেশে ফুল রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৭৬ কোটি টাকা।বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার ফুল রপ্তানি হয়। যেখানে রয়েছে তাজা, শুকনো ও কৃত্রিম ফুল।

অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে ১৪৫টি দেশ ফুল উৎপাদন ও বাণিজ্যিক চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত।আর বিশ্বে বার্ষিক ফুলের চাহিদার পারিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতো চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে ফুলের বাজার প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পাশাপাশি সারা দেশে ফুলের চাহিদা থাকলেও বেশিরভাগ চাহিদা রাজধানীকেন্দ্রিক। ফলশ্রুতিতে রাজধানী এখন এই ফুলের প্রধান বাজারে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীর হাইকোর্ট মাজারের সামনে এক সময় ফুলের বিপণিবিতানগুলো ছিল। বর্তমানে শাহবাগ, ধানমণ্ডি,খামারবাড়ী,কাঁটাবন, লক্ষ্মীবাজার, বনানী, শাঁখারীবাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে।আর শাহবাগে শিশুপার্কসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ফুলের অন্যতম পাইকারি বাজার।

সারা ঢাকায় ফুটপাতসহ অভিজাত ফুল বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা এখন প্রায় এক হাজার বলে জানিয়েছে ঢাকা ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি। আর সারা দেশে এই সংখ্যা চার হাজারের ওপরে বলেও জানায় তারা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড