• বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮ ফাল্গুন ১৪২৫  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

কৃষি কাজ করে স্বাবলম্বী সীমান্তের রতন

  সাদ্দাম হোসাইন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৪৯

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রতনের আবাদি জমি

কৃষিকাজ করে অভাবমুক্ত সংসার ও ক্ষুধামুক্ত জীবন গড়ে আজ পুরোপুরি স্বাবলম্বী হয়েছেন মো. রতন খান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গ্রামে ওই কৃষকের জন্ম।

দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে জয়ী স্বাবলম্বী রতন মিয়া বলেন, গত কয়েক বছর পূর্বে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা হওয়াতে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থেকে তার দিনাতিপাত করতে হত, যা দিয়ে তার সংসার কোনোভাবেই চলত না। ফলে তাদের সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকত। একসময় তিনি এ সব অপকর্ম ছেড়ে দিয়ে সৎ পথে থেকে অন্য কিছু করার চিন্তা করেন। ফলশ্রুতিতে তার মাথায় পরিকল্পনা আসে কৃষিকাজে। 

ভারতের বাসিন্দা গোপাল দেব ও তপন মেম্বারের সঙ্গে পরিচয় থাকার বিনিময়ে দুই জনের প্রায় এক একর জমির মধ্যে মৌসুমি সবজি চাষ করার জন্য প্রস্তুত হন তিনি। সেখানে সরিষা, টমেটো, লাউ, করলাসহ বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি সবজি চাষ শুরু করেন। 

রতন বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি তার সবজি ক্ষেত থেকে প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকার সবজি বিক্রি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কৃষিই আমার একমাত্র আয়ের উৎস। নিজের সংসারের চাহিদা মেটানোর পর বাকি উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তিনি যে টাকা আয় করেন তা দিয়ে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে আজ তিনি সক্ষম। কৃষি কাজের পূর্বে তার যে বসতঘরটি ছিল তা আজ দালান ঘরে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে অভাব নামের শব্দটি আমাদের জীবনে নেই।

কৃষির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের কথা শুনে উপজেলা কৃষি অফিস তার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষি অফিস থেকে ধান ও সবজি চাষের ওপর কোন রকম প্রশিক্ষণ পান নাই এমনকি বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধসহ কৃষি অফিস থেকে উপহারস্বরূপ কোন রকম সেচ পাম্প তার হাতে আসে নাই একজন কৃষক হিসেবে। আজ তিনি নিজ উদ্যোগে, নিজের প্রচেষ্টায় অনেকটাই স্বাবলম্বী। 

রতন ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা বন বিভাগ এবং উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে কৃষিবিষয়ক সাহায্য প্রত্যাশা করেন। একটি ওষুধ ছিটানো মেশিন এবং জমি চাষের একটি ট্রাক্টর মেশিন পেলে কৃষি কাজের জন্য সহায়ক হয়, তাই সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়ার আশা করেন রতন খান।

এই নিয়ে আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমরা সরকারী নিয়ম অনুযায়ী সেবা দিয়ে থাকি। সেই ক্ষেতে সবজি চাষীদের জন্য আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। সে যদি আমাদের কাছে কোন রকম পরামর্শ চাই আমরা অবশ্যই দিতে বাধ্য এবং দিয়ে থাকি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড