• শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ৫ মাঘ ১৪২৫  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

জয়পুরহাটে আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

  জয়পুরহাট প্রতিনিধি ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪৪

আলুর বাম্পার ফলন
মাঠ থেকে আলু তুলতে ব্যস্ত ছট-বড় সবাই (ছবি : দৈনিক অধিকার)

দেশের আলু চাষের অন্যতম জেলা জয়পুরহাট। চাষিরা আগাম জাতের আলু উত্তোলন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সদর উপজেলার সুন্দরপুর, পাইক পাড়া, পুরানাপৈল, জলাটুল, শেখ পাড়া, দাদড়া, তাজপুরসহ বিভিন্ন মাঠে আগাম আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। 

জয়পুরহাট সদরের সুন্দরপুর এলাকার আলু চাষি জাহাঙ্গীর আলম, এনামুল হক, রুহুল আমিন, আজিজুল হক, নাছির উদ্দিনসহ একাধিক আলু চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার আলুর দাম ভাল পাওয়ায় বেশ খুশি তারা। প্রতি বিঘা আলু চাষ করতে খরচ হয়েছে ১৫-২০ হাজার টাকা, প্রতি বিঘা ফলন হচ্ছে এখন ৫০-৬০ মণ। পাইকারি প্রতি মণ আলু বিক্রয় হচ্ছে  ৬০০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকা এবং প্রতি বিঘায় আলু বিক্রয় হচ্ছে ৩০-৪৫ হাজার টাকা। এতে খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হচ্ছে ১৫-২৫ হাজার টাকা। 

(ছবি : দৈনিক অধিকার)

মাঠ থেকে আলু সংগ্রহ করে এক জায়গায় রাখার সময় (ছবি : দৈনিক অধিকার)

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৩৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও ৩৯ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫ ভাগ বেশি। এতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন। 

উপজেলা ভিত্তিক আলু চাষের মধ্যে রয়েছে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৬ হাজার ৮শ হেক্টর, পাঁচবিবি উপজেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর, আক্কেলপুর উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর, কালাই উপজেলায় ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর ও ক্ষেতলাল উপজেলায় ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। যা জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহসহ বিদেশে রপ্তানি করা হয় ।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম সাজু জানান, দেশের আলু চাষের উন্নত এলাকা জয়পুরহাট। আলু চাষ সফল করতে কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এবার জেলায় সারের মজুদ পর্যাপ্ত  ছাড়াও বিএডিসি’র পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের আলু বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এবার আলুতে রোগ-বালাই দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হবে ।