• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

করোনা জয়ী সাধনা স্যাম্পল সংগ্রহের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত||আশুলিয়ায় করোনায় আক্রান্ত ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা||রান্না দেরি হওয়ায় স্বামীর বকুনি, গৃহবধূর আত্মহত্যা||গাজীপুরে মুক্তিযোদ্ধা কন্যার পৈত্রিক জমি হরণের চেষ্টা চাচাদের বিরুদ্ধে||এবার লাদাখে পাঁচটি ‘ভয়ঙ্কর’ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে ভারত||ভোলায় ননএমপিও শিক্ষকরা পেলো প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা উপহার||ভারতের পর যুক্তরাষ্ট্রেও নিষিদ্ধ হচ্ছে চীনা অ্যাপ||মিয়ানমারের দুই সেনা কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা আরোপ||সীমান্ত থেকে চীনের সেনা প্রত্যাহারের ভিডিও প্রকাশ||বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হলে ‘হত্যা মামলা’ হবে
sonargao

 শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা রুবানা হক দেননি : বিজিএমইএ

  অধিকার ডেস্ক

০৬ জুন ২০২০, ১৮:২৯
বিজিএমইএ
বিজিএমইএ

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেননি বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়ছে।

শনিবার (৬ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় দেশের তৈরি পোশাক কারখানা মালিকদের এ সংগঠনটি।

এতে বলা হয়, ৬ জুন ‘গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের’ ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলনের প্রতি বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিজিএমইএ মনে করে, বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপিত হয়নি। বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেননি।

সংগঠন হিসেবে এ ধরনের ঘোষণা দেয়ার কোনো সুযোগও নেই। বিজিএমইএ সভাপতি কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়া এবং সম্ভাব্য শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে তার গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিজিএমইএ বলছে, চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পোশাক শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ১৪ শতাংশ, যা শিল্পে গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। গত ১ মে-সময়ে শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ৫৫.৭ শতাংশ। আর চলতি বছরের মার্চ’থেকে এ পর্যন্ত পোশাক শিল্পে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেও অধিক ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারগুলো কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে অনেক বড় বড় ক্রেতা দেউলিয়াত্বও বরণ করেছে।

বিজিএমইএ-এর দাবি, চলমান পরিস্থিতিতে প্রকৃতপক্ষে কোনো কারখানাই সামর্থ্যের শতভাগ ব্যবহার করতে পারছে না। ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় কারখানা সচল রেখেছে, এমন ঘটনাও আছে। বড় কারখানাগুলোও ৬০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।

এছাড়া চলতি জুনে পোশাক কারখানাগুলো গড়ে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো রকমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখছে। জুলাইয়ের পরিস্থিতি এখনই অনুমান করা কঠিন। তবে উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলো পোশাক শিল্পের জন্য আরও চ্যালেঞ্জময় হবে।

আন্তজার্তিক সংস্থা ম্যাকেঞ্জির তথ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এর প্রভাবে ২০২০ সালে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বিশ্বের পোশাক বাজারে সেলস রেভিনিউ ৩০% অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতনি ১০ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে।

চলমান পরিস্থিতিতে, উদ্যোক্তারা টিকে থাকার লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিজিএমইএ -এর সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে ৩৪৮টি কারখানা বন্ধ হয়েছে শুধুমাত্র গত ২ মাসেই। বাকি আছে আর মাত্র ১৯২৬টি কারখানা।

পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাকি কারখানাগুলো হয় একে একে বন্ধ হয়ে যাবে অথবা কম ক্যাপাসিটিতে (পূর্ণ সামর্থ্য ব্যবহার ছাড়াই) টিকে থাকার চেষ্টা করবে দিন বদলের আশায়। এটাই বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা। আমরা সবাই দেখছি, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতেও কাজ ও শ্রমিক সংখ্যা বিপুলভাবে কমছে। আমরা শিল্প গড়ি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য। আজকের এই বাস্তবতা আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্যও নির্মম।

দু’টি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন জানিয়ে বিজিএমইএ জানায়, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সহজ শর্ত ঋণের ৫ হাজার কোটি টাকার পুরোটাই সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল একাউন্টে দেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, এ পোশাক খাত প্রতি মাসে মজুরি পরিশোধ করে থাকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার।

সমস্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কারখানা বন্ধ বা সামর্থ্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের কথা ভেবে বিজিএমইএ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। শুধুমাত্র পোশাকখাতই নয়, সকল খাতেই কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে।

কোনো কারখানা যদি চলমান পরিস্থিতির শিকার হয়ও, তথাপি মালিক ও শ্রমিক উভয়ই শ্রম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন প্রত্যাশা বিজিএমই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড