• মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা খারিজ করে দিল মার্কিন আদালত

  অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

২৩ মার্চ ২০২০, ১৬:০৬
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক লোগো (ফাইল ফটো)

ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক করপোরেশন (আরসিবিসি) ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা।

সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনো অপারেটর ব্লুমবেরি রিসোর্টস করপোরেশনের বরাতে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এ খবর দিয়েছে।

ক্যাসিনো অপারেটরটি বলেছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন আদালতের মতামত ষড়যন্ত্রের দাবি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিবাদীদের দায়ের করা অভিযোগ খারিজ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে আদালত।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আদালতে মামলাটি করে। মামলায় ম্যানিলাভিত্তিক ব্যাংক আরসিবিসিকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ফিলিপাইনের মানি এক্সচেঞ্জ হাউস, ২টি ক্যাসিনো এবং বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় আরসিবিসি ব্যাংকসহ ৬টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ ব্যক্তির নাম রাখা হয়েছিল। এতে চুরি হওয়া অর্থসহ মামলা পরিচালনার সমুদয় ব্যয় এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

আমেরিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের সাউদার্ন ডিসট্রিক্ট কোর্টে এ মামলাটি করা হয়।

খ্যাতনামা আইনি প্রতিষ্ঠান কোজেন ওকোনর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে মামলাটি করে। 

মামলায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের নিউইয়র্ক শাখায় রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা হাতিয়ে নেয়। এ বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির মধ্যে ফিলিপাইনে যায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং শ্রীলঙ্কায় যায় ২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফিলিপাইনের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার গেছে আরসিবিসিতে। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ আরও বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তারা মানি লন্ডারিংয়ের বিধিবিধান পরিপালন না করে ওই সব অর্থ ছাড় করার মাধ্যমে পাচার করতে সহায়তা করেছে।

এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকটির শীর্ষ কয়েক কর্মকর্তা এ অর্থ চুরির জন্য কয়েক বছর ধরে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র করেন। অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরীয় হ্যাকাররা এ চুরিতে সহায়তা করেছে। অর্থ চুরির পর তা ফিলিপাইনের আরসিবিসির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে মানি এক্সচেঞ্জ হয়ে এর বেশিরভাগ অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনোর মাধ্যমে পাচার করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন : যে ওষুধে ৬ দিনেই করোনা থেকে মুক্তি

মামলায় আরও বলা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর আরসিবিসি এবং এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। কী ধরনের অপরাধ হচ্ছে তা জেনেও অ্যাকাউন্ট খোলা, বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর এবং পরে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার বিষয়গুলো কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ঘটতে দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ বা নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয় ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ফেরত আসে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এখনো রয়ে গেছে ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ৫৬১ কোটি টাকা।

ওডি/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড