• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অপমান করে টাকা আদায় করতে চান না অর্থমন্ত্রী

  অধিকার ডেস্ক

০৬ নভেম্বর ২০১৯, ২২:০৮
আ হ ম মুস্তফা কামাল
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (ছবি : সংগৃহীত)

খেলাপি ঋণ আদায় প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, কাউকে জেলে পাঠিয়ে বা অপমান করে টাকা আদায় করতে চাই না। তারা যাতে টাকা দিতে পারে, তার জন্য সময় দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য জনগণের করের টাকা যেন ব্যাংকগুলো ফেরত পায়।

বুধবার (৬ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে অনেক ব্যাংক এরই মধ্যে ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়েছে। তবে কেউ কেউ সেটা বাস্তবায়ন করেনি। এখনো যারা এ সিদ্ধান্ত মানেনি, তাদের বলব বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামাতে ব্যাংকগুলো যেসব শর্ত দিয়েছিল, সরকার সেসব শর্ত পূরণ করেছে। কিন্তু কেউ কেউ সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে সুদহার এক অঙ্কে এখনো আনেনি। যারা সরকারের সিদ্ধান্ত মানবে না, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং আইনে সংস্কার এনে মার্জার ও একুইজিশনের মতো বিষয়গুলো কার্যকর করা হবে।

মুস্তফা কামাল বলেন, ঋণের সুদহারের ক্ষেত্রে আমরা একটি একক রেট করতে চাই। সেটা অব্যশই ১০ শতাংশের উপরে যাবে না। ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ১০ শতাংশের কাছাকাছি যেতে পারে। এটা বড় কর্মযজ্ঞ। সবাই মিলে করতে হবে, এখানে বড় বিষয় হলো- কোনো পক্ষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এর জন্য সরকার মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়নের স্বার্থে আমরা আর্থিকখাতে সংস্কার কর্মসূচি জোরদার করতে চাই। ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া আর্থিকখাতের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

গত রবিবার হাইকোর্ট দুই শতাংশ আগাম পরিশোধ সাপেক্ষে খেলাপিদের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারকে বৈধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ঋণ খেলাপিদের জন্য ওই বিশেষ সুবিধার মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ৫টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রথম লটে পঁচিশ হাজার মেট্রিক টন (+১০%) বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানি। প্রস্তাবের অর্থের পরিমাণ ৫৪ কোটি ২৯ লাখ ২৯ হাজার ৬৮৭ টাকা।

চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির সাব-কম্পোনেন্ট ১.৫ এর অন্তর্ভুক্ত ‘সিস্টেমেটিক ইংলিশ টিচিং ফর প্রাইমারি টিচারস’-এর আওতায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের সঙ্গে ট্রেনিং অব দ্য মাস্টার ট্রেনারস ইন ইংলিশের (টিএমটিই) সেবা ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি। এর আওতায় সারা দেশে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে কমপক্ষে দুজন করে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি শিক্ষাদানে দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৪৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬৯ হাজার ২০০ টাকা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘খুলনা জেলার ভুতিয়ার বিল এবং বর্ণাল সলিমপুর কোলাবাসুখালী বণ্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাস্তবায়নাধীন আঠারোবাকী নদীর ৪৯ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার পুনঃখনন ও ৮ ভেন্টের ১টি ড্রেনেজ রেগুলেটর নির্মাণ কাজের ভেরিয়েশন। এতে ব্যয় হবে ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

আরও অনুমোদিত দুই ক্রয় প্রস্তাব হলো-‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে ক্রয় প্রস্তাব। এতে ব্যয় হবে ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। রুপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের ভৌত সুরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণ প্রকল্পের ক্রয় প্রস্তাব। এতে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৪৪৯ কোটি ৫ লাখ টাকা। বাসস।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড