• রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

নিয়ানডারথাল জিনের ধারকরাই বেশি করোনার ঝুঁকিতে

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ জুলাই ২০২০, ১৪:৫৬
নিয়ানডারথাল জিনের ধারক
নিয়ানডারথাল জিনের ধারক (ছবি : সংগৃহীত)

করোনা ভাইরাসে ৫ লাখ ৩৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আবার করোনা ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে সাড়ে ৬৫ লাখের বেশি মানুষ। মূলত গুরুতর অসুস্থদের ক্ষেত্রে এই মৃত্যুর হার বেশি পরিলক্ষিত হলেও দেখা গেছে—অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ কেউ হয়তো ঠিকই সুস্থ হয়ে গেছে, কিন্তু তেমন কোনো অসুস্থতা না থাকলেও কেউ একজন মারা গেছে।

এই মৃত্যুর পেছনে আর কী কী কারণ থাকতে পারে তা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে জার্মানি ও সুইডেনের একদল বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, আজ থেকে ৬০ হাজার বছর আগের একটি জিনের উত্তরসূরিরাই বেশি মারা যাচ্ছে! তবে এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ পাননি যে এই জিনের কারণেই মানুষের বেশি মৃত্যু হচ্ছে।

ইতালি ও স্পেনের হাসপাতালে ভর্তি ৩ হাজার ১৯৯ জন রোগীর ওপর করা এই গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৬০ হাজার বছর আগের নিয়ানডারথালেনসিস প্রজাতির একধরনের মানুষের জিনের ধারক-বাহক রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আর এই জিনের ধারক-বাহকেরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

গবেষকদের মতে, নিয়ানডারথালেনসিস প্রজাতির মানুষের উত্তরসূরিরা তুলনামূলকভাবে অন্যদের চেয়ে বেশি রোগে আক্রান্ত হয়। এই জিনের কারণে তাদের রোগের প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তাই তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দেখা গেছে, এদের সাধারণত অন্যদের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি ভেন্টিলেটর ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়েছে। মূলত গবেষণায় মানুষের ডিএনএ নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়েই তারা ঐ বিশেষ প্রজাতির মানুষের ডিএনএর সঙ্গে মিল খুঁজে পান।

অধ্যাপক হুগো জেবার্গ ও ড. সিভানতে পাবো নামের দুই জন বিজ্ঞানী এই রহস্য উন্মোচন করেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার জাতিসত্তার মধ্যে এই জিন বেশি রয়েছে। বলা যায়, গড়ে এক-তৃতীয়াংশ মানুষই নিনদারথ্যাল জিন বহন করে চলেছেন। আশ্চর্যের বিষয়, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশিদের মধ্যেই নাকি (৬৩ শতাংশ) নিয়ানডারথালদের জিনের বৈশিষ্ট্য বেশি বিদ্যমান। ভারত-পাকিস্তান-নেপাল-শ্রীলঙ্কানদের মধ্যে ৩০ শতাংশ মানুষ এই জিনের ধারক। অন্যদিকে ইউরোপে ৮ শতাংশ মানুষের মধ্যে রয়েছে এই জিনের বৈশিষ্ট্য।

অধ্যাপক হুগো জেবার্গ ও ড. সিভানতে পাবো তাদের গবেষণায় বলেছেন, নিয়ানডারথাল জিনের ক্রম বিশ্লেষণ করে তারা দেখতে পেয়েছেন, সেখানে থাকা ৩ নম্বর ক্রোমোজোমটি করোনা ভাইরাসে সার্স-কোভ-২ সংক্রমণের পর বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ৪০ হাজার বছর থেকে ৬০ হাজার বছর আগের এই সময়টাতে নিয়ানডারথালের প্রায় সমগোত্রীয়ের সঙ্গে মিলিত হয়ে মানুষের ধারায় যুক্ত হয়। আকার-আকৃতিতে অনেকটাই মানুষের সঙ্গে এদের মিল থাকলেও এরা মানুষের চেয়ে বেশি পেশিবহুল ছিল। —ডেইলি মেইল

ওডি

jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড