• রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ৩১ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনার ভুল তথ্যে গায়েব প্রকৃত সত্য

  ফিচার ডেস্ক

০২ এপ্রিল ২০২০, ১৭:০৭
ফাইল ছবি
ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাস মানুষের একটি সংক্রামক ব্যাধি। সারা বিশ্বের মানুষ করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত, দিশেহারা। আতঙ্কের পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে একাধিক গুজব আর ভ্রান্ত ধারণা যা বিভ্রান্ত করছে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষকে। অনেকে করোনাভাইরাসকে ভুলভাবে জনসম্মুখে তথ্য প্রচার করে বেড়াচ্ছে যাতে করে সাধারণ মানুষ নানা বিভ্রান্তির পড়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রকৃত সত্য ঘটনা আড়ালে চলে যাওয়ায় মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কিছু গুজব বা ভ্রান্ত ধারণা আর প্রকৃত সত্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।

সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি তথ্য সামনে এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিনের মাধ্যমেই সেরে যেতে পারে করোনাভাইরাস। কিন্তু এই তথ্যটি একেবারেই ভুল। কারণ, এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসের কোনও টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কারই হয়নি। এ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে।

সম্প্রতি একটি মতামত বেশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে। এখানে বলা হয়েছে, নিয়মিত বেশি করে পানি পান করলে শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে সহজেই রুখে দেওয়া যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই তথ্যটি ভুল। আমরা সকলেই জানি যে, শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত পরিমাণ মতো পানি পান করা কতটা জরুরি। কিন্তু পানি পান করার ফলে কোনও ভাবেই করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না।

সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি দাবি খুব ভাইরাল হয়েছে, অতিবেগুনি রশ্মি যুক্ত লাইট যা জীবাণু ধ্বংস করতে সক্ষম, সেটির সাহায্যে করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মোহালির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-এর অধ্যাপক, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডঃ ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এখনও পর্যন্ত এই তত্ত্বটির সপক্ষে কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাছাড়া, অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকের নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

অনেকেই মনে করছেন, এই করোনাভাইরাসও সাধারণ সর্দি কাশির মতোই সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই সেভাবে প্রাণহানির ঝুঁকি নেই। এ ক্ষেত্রে ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ধারণা একেবারেই সঠিক নয়। সময় মতো ব্যবস্থা নিতে না পারলে এই ভাইরাসে মৃত্যুও হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই ভাইরাসের প্রকোপে মৃত্যু সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এসএআরএস-সিওভি-২ ভাইরাসটি অন্যান্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের থেকে একেবারেই আলাদা ও ভয়ঙ্কর!

সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি তথ্য সামনে এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, যদি আপনি নিয়মিত ১০ সেকেন্ড আপনার শ্বাস ধরে রাখতে পারেন, তাহলে আপনি যে কোনও রোগ থেকে নিজেকে অনায়াসে দূরে রাখতে পারবেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও ব্যক্তি ১০ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে পারছেন মানে, তার ফুসফুসের স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে ভাল। তবে তার মানে এটা কখনওই নয় যে, ওই ব্যক্তি ভাইরাস থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত বা কোনও দিনই ভাইরাসে সংক্রমিত হবেন না।

সোশ্যাল মিডিয়ার আরো একটি তথ্য সামনে এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই তথ্য কোনও ভাবেই সঠিক নয়। শীতল আবহাওয়া কোনওভাবেই করোনাভাইরাস বা অন্য কোনও ভাইরাস ঘটিত রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না।

সম্প্রতি একটি মতামত বেশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে। এখানে বলা হয়েছে, ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট খেয়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। কিন্তু এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ (মেডিসিন) চিকিৎসক ডঃ অরিন্দম বিশ্বাস জানান, ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে, এমন কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি। মেডিক্যাল স্কুল অব হার্ভাড ইউনিভার্সিটি-এর গবেষকরাও এ বিষয়ে একমত।

সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি দাবি খুব ভাইরাল হয়, মশার কামড় থেকে নাকি সংক্রমিত হতে পারে করোনাভাইরাস! কিন্তু এ ক্ষেত্রে পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, এই তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুল। হাঁচি-কাশির ড্রপলেট থেকে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়।

আরও একটি মতামত বেশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মে। এখানে বলা হয়েছে, শিশুরা কোনও ভাবেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই তথ্যটি ভুল। কারণ, ছোট থেকে বড়, যে কেউই আক্রান্ত হতে পারে এই ভাইরাসে। যেমন, সম্প্রতি আমেরিকা, ভারতে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড