• শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭  |   ২৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাপ বা বাদুড় নয়, করোনা ছড়িয়েছে বনরুই থেকে!

  স্বাস্থ্য ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০২০, ২১:২৪
বনরুই
বনরুই (ছবি : ইন্টারনেট)

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ ছড়িয়েছে সাপ বা বাদুড় থেকে। তবে সম্প্রতি চীনে পাচার হওয়া মালয় প্রজাতির বনরুইয়ের মধ্যে করোনা ভাইরাসের দুটি ধরনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভাইরাসের সঙ্গে মিল আছে মানুষের শরীরে পাওয়া কোভিড-১৯ এর।

হংকং ইউনিভার্সিটির গবেষক টমি ল্যাম গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চোরাই পথে পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে বনরুই একটি। জড়িবুটি ওষুধ তৈরিতেও এটির ব্যবহার হয়ে থাকে। চোরাই পথে আসা মালয় প্রজাতির বনরুইয়ে এ ভাইরাস পাওয়া যাওয়ার পর এই প্রশ্নটাও উঠেছে যে, এই প্রজাতির বনরুইয়ের শরীরেই বা ভাইরাস ঢুকল কীভাবে? সেটা কি পাচারের সময় আশপাশে থাকা বাদুড় থেকে এসেছিল, নাকি দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায় তাদের যে প্রাকৃতিক আবাসস্থল, সেখানেই ঘটেছিল?

তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির ক্ষেত্রে বনরুইয়ের ভূমিকা বুঝতে হলে আরও পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা প্রয়োজন। যদিও ‘সার্স কোভ–২’– এর প্রাদুর্ভাবের সরাসরি ‘হোস্ট’ হিসেবে বনরুইয়ের ভূমিকা আরও নিশ্চিত হওয়ার দরকার আছে। তবে ভবিষ্যতে যদি এ রকম প্রাণী থেকে মানুষে মহামারি ছড়ানো ঠেকাতে হয়, তাহলে বাজারে এসব প্রাণীর বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।

এ ব্যাপারে ‘ইকো হেলথ অ্যালায়েন্সের’ প্রেসিডেন্ট পিটার ডাসক গণমাধ্যমকে জানান, বনরুইয়ের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া মহামারির সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি বন্যপ্রাণী থেকে ছড়িয়ে পড়া রোগবালাই নিয়ে গবেষণা করে থাকে।

পিটার ডাসক বলেন, ভাইরাসটি কোথা থেকে ছড়িয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। সম্ভবত বাদুড় থেকে। পরে ওই বাদুড় থেকে আরও একটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর শরীরে এই ভাইরাস ছড়ায়। ওই প্রাণী চীনের উহানে বিক্রির চল আছে।

গত ১৭ মার্চ যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রখ্যাত মেডিকেল জার্নাল নেচারে পাঁচ বিজ্ঞানীর একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণার ফলে জানানো হয়, এসব প্রাণী নিয়ে নাড়াচাড়া করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে করোনা ভাইরাসের মতো কোনো মারাত্মক রোগ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে বন্যপ্রাণীর বাজারে বনরুইয়ের মতো প্রাণী বিক্রি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।

গবেষণায় আরও বলা হয়, বাদুড়ের শরীরেও করোনা ভাইরাস আছে এবং তার সঙ্গে মানুষের শরীরে সংক্রমিত ভাইরাসের আরও বেশি মিল আছে। কিন্তু ভাইরাসের একটি অংশ, যা মানুষের শরীরের কোষ ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে ভাইরাসটিকে সহায়তা করে, তার সঙ্গে এর মিল নেই।

বিষয়টিতে সিডনি ইউনিভার্সিটির সহগবেষক অধ্যাপক এডওয়ার্ড হোমস বলেন, এর অর্থ হলো বন্যপ্রাণীদের মধ্যে এমন ভাইরাস আছে, যে ভাইরাস মানুষকে সংক্রমিত করছে। করোনা ভাইরাসের সঙ্গে বাদুড়ের নিশ্চয়ই সম্পর্ক আছে, হয়তো বনরুইও সম্পর্কিত, তবে অন্য কোনো প্রাণীর জড়িত থাকারও জোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

অপরদিকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের জুলজিক্যাল সোসাইটির অধ্যাপক এন্ড্রু কানিংহ্যাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই গবেষণাপত্র থেকে একলাফে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক হবে না। কোভিড-১৯ উৎস আসলে এখনো অজানা। হয়তো এটা কোনো বনরুইয়ে ভাইরাসটি প্রাকৃতিকভাবেই ছিল বা বনরুইটি ধরা এবং হত্যা করার সময় অন্য কোনো প্রাণী থেকে এসেছিল।

আরও পড়ুন : করোনা হয়েছে ভাবছেন? জেনে নিন কী করবেন

এরই মধ্যে চীন অবশ্য করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিয়েতনামেও এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে দেশটির সরকার।

বাংলাদেশেও আছে তিন প্রজাতির বনরুই

আফ্রিকা ও এশিয়া মহাদেশের স্তন্যপায়ী প্রাণী বনরুই। দেশে তিন প্রজাতির বনরুই আছে- দেশি, চীনা ও মালয়। পিঁপড়া ও পিঁপড়াজাতীয় প্রাণী খায় বলে আঁশযুক্ত পিঁপড়াভুক নামেও পরিচিত। মুখে কোনো দাঁত নেই বলে আগে দাঁতহীন স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হতো।

চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেটে দেখা মেলে বনরুইয়ের। মাটিতে বাস করে। তবে এই প্রাণীটি গাছেও চড়তে পারে। বাংলাদেশে বনরুই ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর কাছে প্রিয় খাবারের একটি।

এ দিকে, বন্যপ্রাণী পাচারের ওপর নজরদারি করা আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ‘ট্রাফিক’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর অন্তত ২০ টন বনরুই পাচার হয়। বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে গত ১৬ বছরে প্রায় ১৬ লাখ বনরুই পাচার হয়েছে। এটি বন্য প্রাণীর পাচারের দিকে শীর্ষে।

ওডি

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড