• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬  |   ৩২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

করোনা আতঙ্ক : প্রাণী চিকিৎসক ও প্রাণী পালকদের যা জানা দরকার

২২ মার্চ ২০২০, ১৩:৪৯
করোনা ভাইরাস
ছবি : প্রতীকী

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। এই ভাইরাসের দ্বারা প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

যেহেতু করোনা ভাইরাস বাদুড় নামক প্রাণী থেকে ছড়িয়েছে বলা হয়, তাই প্রাণী চিকিৎসকদেরকে পোষাপ্রাণী পালনকারীগণ নানা ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন। তাছাড়াও প্রাণী পালকগণ, পোল্ট্রি খামারী (প্রধানত মুরগি), মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর মাংসের ভোক্তাগণ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

তবে ‘আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’ কিছু তথ্য দিয়েছেন। যেগুলো জানা থাকলে কেউ আতঙ্কিত হবেন না। যে তথ্যগুলো পুরো বিশ্বের মানুষের জন্যই জানা দরকার। চলুন জানা যাক তথ্যগুলো।

করোনা ভাইরাস এবং গৃহপালিত পশুপাখি

করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কারণ যে বাদুড় তা হয়তো এখন আর কেউ সন্দেহ করছে না। তবে একসময় দাবি করা হয়েছিল সাপ ও প্যাঙ্গোলিন থেকেও এই ভাইরাস মানুষের মাঝে ছড়াতে পারে। তবে এই ভাইরাস যখন মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো শুরু করেছে তখনই বিপদ আরও বেড়ে গেছে।

করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পর থেকেই গৃহপালিত পশুপাখি থেকে যে ছড়ায় না তা জানা গিয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুরুতে কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই গবাদিপশুর মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কথা বলেছিল। পরবর্তী সময়ে দেশের প্রাণী চিকিৎসকদের দ্বারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচালিত ‘ডিভিএম প্রাকটিশনার্স গ্রুপ’ এর পেজ থেকে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়। ফলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা ভাইরাস ছড়ানোর উপায় থেকে পশুপাখি বা গবাদিপশুর মাধ্যমে ছড়ায় কথাটি বাদ দেয়। এছাড়াও প্রতিরোধের উপায় থেকে অসুস্থ পশুপাখি, মাছ, মাংসের কথাও সরিয়ে ফেলে। কিন্তু এখনো অনেক মিডিয়াই পুরনো ভুল তথ্যই প্রচার করে যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাস ও পোষাপ্রাণী

পোষাপ্রাণীর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কুকুর ও বিড়াল। ২৭ ফেব্রুয়ারি হংকংয়ের একটি কুকুরে দুর্বলভাবে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। যার মালিক ছিল করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। পরবর্তীকালে ১২ মার্চ, এই কুকুরটিতে আর ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে বার্ধক্যজনিত কারণ ও নানাবিধ রোগের কারণে ১৭ বছর বয়সে কুকুরটি মারা যায়।

সাধারণত একটি কুকুর গড়ে ১০-১৩ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। ‘আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’ থেকেও বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। তবুও গতকাল আমাদের দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে করোনা ভাইরাসকেই দায়ী করা হয়েছে! যা দায়িত্বশীল মিডিয়ার কাজ হওয়া উচিত ছিল না।

বর্তমানে আরও একটি কুকুরে কোনো প্রকার উপসর্গ ছাড়াই করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। কুকুরটির মালিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তবে করোনা ভাইরাস দ্বারা কুকুর, বিড়াল বা অন্যকোনো প্রাণী অসুস্থ হওয়ার কথা জানা যায় না। আর ভাইরাস পাওয়া গেলেও পোষাপ্রাণী থেকে ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

যাই হোক, কুকুর, বিড়াল যেহেতু অন্যান্য রোগ ছড়াতে পারে তাই নিরাপদ থাকার ভাল উপায় হচ্ছে পোষাপ্রাণীকে স্পর্শ করার পর হাত ধোয়া। যা সচেতন প্রাণী পালকগণ করে থাকেন।

প্রাণী চিকিৎসকদের নিরাপদ থাকার উপায়

এখনো করোনা ভাইরাসের কার্যকর কোনো প্রতিষেধক টিকা কিংবা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তাই আমি, আমরা এবং প্রাণী চিকিৎসকগণ যাতে নিজেরাই সংক্রমিত না হই সে জন্য সচেতন থাকতে হবে। সকলকে রোগের হাল নাগাদ তথ্য রাখতে হবে। এছাড়াও আমাদের আশপাশে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে কি না সে সংক্রান্ত তথ্য জানতে হবে।

ভাইরাস প্রতিরোধে অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে দূরে দূরে অবস্থান করতে হবে। নাক, মুখ, চোখ স্পর্শ করা যাবে না। হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। সাবান পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত হাত ধুতে হবে। প্রাণী হাসপাতালের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টেবিল, দরজার হাতল, মেঝে ইত্যাদি জীবাণুনাশক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

যদি প্রাণী চিকিৎসকদের কোনো দল অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে তাদের উচিত হবে মানব চিকিৎসক দলের সঙ্গে কথা বলে পরামর্শ গ্রহণ করা। কারণ জুনোটিক রোগ তথা প্রাণী হতে মানুষে ছড়ায় বলে এই রোগ প্রতিরোধে প্রাণী চিকিৎসক ও মানব চিকিৎসক উভয়েরই একত্রিত হয়ে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রাণী হাসপাতালে অসুস্থ ব্যক্তির না যাওয়া

করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য যেসব স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে সেসব মেনে চলতে হবে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তিকে প্রাণী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পরিবর্তে সুস্থ কোনো ব্যক্তির সহায়তায় প্রাণীকে পাঠানো যেতে পারে।

যদি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির বাসায় গিয়ে প্রাণী চিকিৎসা করতে হয়, তবে প্রথমেই প্রাণীর মালিকের চিকিৎসার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। যদিও পোষাপ্রাণী থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায় না তবুও জুনোটিক এবং সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত পথ নির্দেশনা প্রাণী চিকিৎসকদের যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

টেলিমেডিসিন পদ্ধতি ব্যবহার করা

খুব বেশি প্রয়োজন হলে প্রাণী চিকিৎসকদের টেলিমেডিসিন পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। অর্থাৎ প্রাণী চিকিৎসকগণ মোবাইল ফোন বা টেলিফোনের মাধ্যমে পরামর্শ দিবেন। এতে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে যাবে। কারণ প্রয়োজন না হলে প্রাণী পালকদেরকে হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে প্রাণী নিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হবে না।

করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষা

প্রাণীতে করোনা ভাইরাসে উপস্থিতি শনাক্তকরণে যুক্তরাষ্ট্রেও সাধারণ ক্লিনিকগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তারা দ্রুত সাধারণ ক্লিনিকেও পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করার পথে রয়েছে।

আরও পড়ুন : পরিবারের কেউ হোম কোয়ারেন্টিনে থাকলে আপনার করণীয়

যেহেতু পোষাপ্রাণী তথা কুকুর, বিড়াল, হাঁস, মুরগি এবং অন্যান্য গৃহপালিত পশুপাখি থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই ঢালাওভাবে এসব প্রাণীকে করোনা ভাইরাসের জন্য পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।

সূত্র- আমেরিকান ভেটেরিনারি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন

ওডি/এনএম 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড