• শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

সর্বশেষ :

একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগ 

সিরাজ আতঙ্কে নিশ্চুপ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা  

  অধিকার ডেস্ক    ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২:১১

অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা
মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন এক ছাত্রী। (ছবি : ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

নুসরাত জাহান রাফির মতো একাধিক শিক্ষার্থী সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার যৌন হয়রানির শিকার। তবে এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কমিটির পদক্ষেপ গ্রহণে গাফিলতি থাকায় সিরাজের আতঙ্কেই চুপ থাকেন শিক্ষার্থীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ছাত্রী এই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ শুধু নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গেই এমন করেনি। আমাদের অনেকের সাথে এমন করেছে। ওনার একটা অভ্যাস ছিল এটা।        

২০১০ সালে শিক্ষাঙ্গনে যৌন নিপীড়ন-সহিংসতা রোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রণীত হলেও মানছে না ফেনীসহ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে দিন দিন বাড়ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ঘটনা বলেও অভিযোগ উঠেছে। 

অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও এই বিষয়ে মাদ্রাসা কমিটি কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় শিক্ষার্থীরা নিশ্চুপ থাকেন এমন অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা। তারা বলছেন, নুসরাতসহ একাধিক শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার হলেও মাদ্রাসা কমিটির কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়না। এতে আরও বেপরোয়া ছিলেন অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা। আবার কোনো প্রতিকার হতো না বলে ভয়ে অনেকে অভিযোগ করতেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

এ দিকে ব্যর্থতার দায়ে মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ বাতিলের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহেদুজজামান সাংবাদিকদের বলেছেন, গভর্নিং বডি নিয়ে যে কথা উঠছে, যদি তাদের কোনো গাফিলতি থাকে তবে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

রিপোর্ট পাওয়ার পরে কার কোথায় গাফিলতি ছিল এই বিষয়ে নিশ্চিত জানা যাবে বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তদন্তে দায়ী হলে মাদ্রাসা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
     
উল্লেখ্য, দীর্ঘ পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর গত বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে না ফেরার দেশে চলে যান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। 

এর আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। পরে ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয় অধ্যক্ষকে।

গ্রেফতারের পর গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম (এইচএসসি) পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান ওই ছাত্রী। এরপর কৌশলে তাকে পাশের ভবনের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। ওই সময় বোরকা পরিহিত ৪-৫ জন ওই ছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। 

শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে নুসরাতকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে।

তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় ওই দিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন।

পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়।  

ওডি/এআর 

অপরাধের সূত্রপাত কিংবা ভোগান্তির কথা জানাতে সরাসরি দৈনিক অধিকারকে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড