• শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১, ২ মাঘ ১৪২৭  |   ২০ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

এসআই আকরামের হাতে নির্যাতিত সাংবাদিক, মুখ খুললেন দুই বছর পর

  অধিকার ডেস্ক

০৮ জানুয়ারি ২০২১, ১৩:৫৮
সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক ও এসআই আকরাম
সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক ও এসআই আকরাম (ছবি : সংগৃহীত)

২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে ময়মনসিংহে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকরামের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, যৌনপল্লীতে নারী পাচার, সন্ত্রাসীদের অপরাধ কার্যক্রমে সহযোগিতার অভিযোগের ছিলো।

সে সময়ে এসআই আকরামের এইসব অপরাধের চিত্র পত্রিকায় তুলে ধরেই রোষানলে পরেন দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক, দৈনিক আমাদের কন্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি খায়রুল আলম রফিক।

দৈনিক ময়মনসিংহ প্রতিদিনে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের ধারাবাহিকতায় শহরের চরপাড়ায় মাদক কারবারিদের সাথে এসআই আকরাম হোসেনের ঘনিষ্টতা বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সময় এসআই আকরাম হোসেন কর্মরত ছিলেন ৩নং ফাঁড়ি পুলিশে।

সাংবাদিক রফিকের অভিযোগ, এসআই আকরাম হোসেন তাকে আটক করে হেফাজতে রাখার নামে অকথ্য নির্যাতন চালায় যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আক্রামের যোগসাজশে ষড়যন্ত্রমূলক ৩টি মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ দুই মাস থাকতে হয় ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে।

এর আগে তার চোখ বেঁধে অকথ্য নির্যাতন করে এসআই আকরাম হোসেন, অভিযোগ সাংবাদিক রফিকের।

এসআই আকরামের বিরুদ্ধে সাংবাদিক রফিক ইতিমধ্যে পুলিশের ‘আইজিপি’স কমপ্লেইন মনিটরিং’ সেলে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। যার অভিযোগ নম্বর SL-17 এবং তারিখ ৫ই জানুয়ারি ২০২১।

অভিযোগ পত্রে তিনি জানান, ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেইটের বিপরীত দিকে আমি অবস্থান করছিলাম। এসআই আকরামের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ আমার চোখ বেঁধে একটি কালো গাড়িতে করে আমার পত্রিকার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা আমার জমি ক্রয়ের দলিল, ব্যাংকের চেক ও কম্পিউটার জব্দ করে। দলিল ও ব্যাংক চেক প্রতিপক্ষের কাছে তুলে দিয়ে জব্দ দেখানো হয় শুধু কম্পিউটার। সেখান থেকে আমাকে নেয়া হয় ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র পুরাতন গুদারাঘাটস্থ দুর্গম চর এলাকায়। দু'চোখ বেঁধে দু হাত পেছনে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়।

কিন্তু দুই বছর পরে বিষয়টি কেন সামনে এনেছেন এমন প্রশ্নে সাংবাদিক রফিক জানান, তিনি ঘটনাটি চক্ষু লজ্জার কারনে সামনে আনতে পারেননি এতদিন। তিনি জানান গত বছরের ডিসেম্বরে ২২ তারিখে অজ্ঞাত কোন এক ব্যাক্তি তার ম্যাসেঞ্জারে চোঁখ বাঁধা ছবি প্রদান করেন। যা দেখে তিনি আতঁকে উঠেন এবং সেই সব নির্যাতনের দৃশ্যগুলো চোখের সামনে ভাসতে শুরু করে। এর পরপরই তার এই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হতে শুরু করে। একারনেই দুইবছর পর মুখ খুললেন বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা হয় অভিযুক্ত এসআই আকরামের সাথে। তিনি বলেন, উনি (খায়রুল আলম রফিক) আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ দিয়েছে তা আমি এখনও দেখি নাই। আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। তবে এর আগেও ২০১৮ সালে তিনি (খায়রুল আলম রফিক) আমার নামে একটি অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে দিয়েছিল। সেটা পুলিশ হেডকোয়াটার্স হয়ে আমাদের ময়মনসিংহে এসেছিল।

তিনি আরও বলেন, এখানে আমার সিনিয়র যারা আছেন তারা বিষয়টি তদন্ত করেছে। তৎকালীন সময়ে আমার বিরুদ্ধে করা তার (খায়রুল আলম রফিক) কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই আমার বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশন নিতে পারেনি আমার সিনিয়ররা। উনার (খায়রুল আলম রফিক) সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই। উনি কেন এসব করছে জানি না। আর আমি উনাকে কোন মামলায় আটকও করিনি। আর আমার বিরুদ্ধে যদি মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজস থাকে সেটা প্রমাণিত হলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে এতে আমার কোন আপত্তি নেই।’

উল্লেখ্য, সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক দৈনিক আমাদের কণ্ঠ নামের একটি পত্রিকায় বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছে।

ওডি

অপরাধের সূত্রপাত কিংবা ভোগান্তির কথা জানাতে সরাসরি দৈনিক অধিকারকে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
jachai
niet
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
niet

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

যোগাযোগ: 02-48118241, +8801907484702 

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড