• শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৫ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুই সাংসদের প্রশ্রয়ে অপরাধজগতে পাপিয়া

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৪৮
পাপিয়া
যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর ওরফে পাপিয়া (ফাইল ছবি)

নরসিংদী জেলার ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্যের হাত ধরেই রাজনীতিতে উত্থান ঘটে যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর ওরফে পাপিয়ার। এ জেলারই সরকার দলীয় আরেক এমপির আশ্রয়–প্রশ্রয়ে অপরাধজগৎ বিস্তৃত করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দুই নেত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) যুব মহিলা লীগের দুই নেত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নরসিংদীর সাবেক এক সংসদ সদস্যের সুপারিশে পাপিয়া ২০১৪ সালে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ওই এমপি গত নির্বাচনে প্রার্থিতা পাননি। কয়েক বছর ধরে পাপিয়া নরসিংদীর বর্তমান এক এমপির সমর্থন পাচ্ছিলেন। তার প্রভাব খাটিয়ে সংগঠনে নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন।

এ ছাড়া যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রী এবং ঢাকার সংরক্ষিত নারী আসনের এক এমপির আস্থাভাজন ছিলেন পাপিয়া।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পরই বেরিয়ে আসতে শুরু করে তার অপরাধ জগতের বিভিন্ন তথ্য। অল্প সময়ের মধ্যে তার আসল চরিত্র জানাজানি হয়। পাপিয়ার মোবাইলে থাকা ভিডিও দেখে অবাক বনে যান র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তারা। ওই সব ভিডিওতে ধনী ব্যবসায়ী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী নেতাদের ‘অনৈতিক দৃশ্য’ আছে। ভিডিওগুলোর মধ্যে কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, খারাপ ভিডিও দিয়ে কাস্টমারদের ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন পাপিয়া। জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া তার সহায়তাকারী প্রভাবশালীদের নাম বলেছেন। এদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা-নেত্রী। তাদের মদদেই পাপিয়া ভয়ংকর বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন। এমনকি পাপিয়া কাউকেই পরোয়া করতেন না। যাদের নাম এসেছে তারা খুবই প্রভাবশালী, তাদের ব্যাপারে সরকারের হাইকমান্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

রাজনীতির আড়ালে পাপিয়া অর্থ পাচার, জাল টাকা সরবরাহ, চাঁদাবাজি, জিম্মি করে টাকা আদায়, তদবির বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা, প্রতারণা ও নারীদের নিয়ে যৌন কারবার চালাতেন। ঢাকার পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে প্রায়ই মদের আসর বসাতেন পাপিয়া। ওই আসরে রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, আমলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু কর্মকর্তাও উপস্থিত থাকতেন। তারা সুন্দরী নারীদের নিয়ে ফুর্তি করে গভীর রাতে বাসায় যেতেন।

তদন্তের বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ওসি বিএম ফরমান আলী বলেন, বিমানবন্দর থানার এক মামলার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে তদন্ত কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন পাপিয়া। তার দেওয়া তথ্যে আমরা অবাক হচ্ছি। পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গে ওয়েস্টিন হোটেলের কে কে জড়িত ছিল, তার অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায় কারা জড়িত ছিল, তার সঙ্গে পাওয়া জাল টাকার উৎস কী, কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি এ পর্যায়ে এসেছেন সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পাপিয়া ও তার স্বামী এবং দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে বিদেশি মুদ্রা ও জাল টাকার মামলা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদকের পৃথক মামলা হয়েছে শেরে বাংলা নগর থানায়।

এ দিকে, বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়া ওরফে পিউয়ের অবৈধ পথে উপার্জন করা সম্পদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার বিকালে দুদক সচিব মোহাম্মদ দিলওয়ার বখত এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন : বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিতে বিএনপির উদ্বেগ

দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নিচ্ছে দুদক। পাপিয়ার ঘটনাটিও অনুসন্ধান করা হবে। এ ক্ষেত্রে যদি অন্য কারও নাম চলে আসে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেবে দুদক। তিনি আরও বলেন, পাপিয়ার সম্পদ, তার উৎস, ক্ষমতা, বিদেশে অর্থ পাচার সবকিছুই অনুসন্ধানের আওতায় আছে।

ওডি/এএস

অপরাধের সূত্রপাত কিংবা ভোগান্তির কথা জানাতে সরাসরি দৈনিক অধিকারকে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড