• বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সাত ভিনদেশি ক্রিকেটারে বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড

  ক্রীড়া ডেস্ক

১৫ জুলাই ২০১৯, ০৯:১০
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ
প্রথম বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড (ছবি : সংগৃহীত)

ক্রিকেটের জন্ম ইংল্যান্ডে। এই ইংল্যান্ডেই যাত্রা শুরু হয় বিশ্বকাপের। অনুষ্ঠিত হয় চারটি বিশ্বকাপ। তারা সব মিলিয়ে খেলে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল। কিন্তু কখনোই জেতা হয়নি বিশ্বকাপ শিরোপা। অবশেষে পঞ্চম বারের মতো আয়োজিত দ্বাদশ বিশ্বকাপে চতুর্থবারে ফাইনালে উঠে ইতিহাস সৃষ্টি করে ইংল্যান্ড জিতে নেয় ৪৪ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম শিরোপা।

মজার তথ্য হলো ইংল্যান্ড যাদের হাত ধরে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছে তাদের অধিকাংশ ভিনদেশি। ইংলিশদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের জন্ম-দেশ আয়ারল্যান্ড। দলটির জয়ের নায়ক বেন স্টোকসও নিউজিল্যান্ডের। সুপার ওভারের নায়ক জফরা আর্চারও উইন্ডিজের। এক কথায় ভিনদেশি তারকা দিয়ে প্রথম শিরোপা জিতে ইংলিশরা।

চলুন জেনে নেই তাদের সম্পর্কে : 

মরগান

ইউইন মরগান : ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। মরগানের এটি চতুর্থ বিশ্বকাপ। তিনি প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন ২০০৭ সালে নিজের জন্মভূমি আয়ারল্যান্ডের হয়ে। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলে ২০০৯ পর্যন্ত আইরিশ দলের জার্সি গায়ে খেলেন তিনি। এরপরই তার গায়ে উঠে ইংলিশ জার্সি। অ্যালিস্টার কুকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইংলিশদের জিতিয়ে দেন প্রথম ক্রিকেট বিশ্বকাপ। দ্বাদশ বিশ্বকাপ আসরে ১১ ম্যাচের ১০ ইনিংস ব্যাট করে ৩৭১ রান। ৪১.২২ এভারেজে তার সর্বোচ্চ সংগ্রহ ১৪৮। করেন একটি করে শতক ও অর্ধশতক|

স্টোকস

বেন স্টোকস : এই যেন ইতিহাসের দিনে আরেক ইতিহাস। নিজের জন্মভূমি, নিজেদের দেশের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে ইংল্যান্ডকে প্রথম শিরোপা এনে দিলেন বেন স্টোকস। ইংলিশদের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের এই মহানায়কের জন্ম নিউজিল্যান্ডে। ১২ বছর বয়সে পাড়ি জমান রানির দেশে। ২০১১ সাল থেকে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলছেন তিনি। 

বিশ্বকাপের এবারের আসরে স্টোকস ব্যাট হাতে ১১ ম্যাচের ১০ ইনিংসে করেন ৪৬৫ রান। এভারেজে ৬৬.৪২, সেঞ্চুরি না থাকলেও পাঁচটি হাফসেঞ্চুরি করেন এই অলরাউন্ডার। এমনকি ফাইনালে তার ব্যাটে চড়েই শিরোপার ছোঁয়া পায় ব্রিটিশরা। বল হাতেও দারুণ পারর্ফম করেন স্টোকস। ১১ ইনিংসে ৫০.৫ ওভরে ৪.৮৩ ইকোনমিতে শিকার করেন ৭ উইকেট। বেস্ট ইনিংস ৩/২৩।

রয়

জেসন রয় : ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়। যার জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়। পরিবারের সঙ্গে ১০ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে পা রাখেন তিনি। ওডিআইতে ২০১৫ সালেই ইংল্যান্ডের জার্সিতে অভিষেক হয় তার। বিশ্বকাপ জয়ের আরেক নায়ক রয়। ৮ ম্যাচের ৭ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪৩। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১৫৩ রানের। ম্যাচ প্রতি এভারেজে ৬৩.২৮। রয় সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে করেন এক সেঞ্চুরি ও চার হাফ সেঞ্চুরি। 

রশিদ

আদিল রশীদ : ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম সদস্য আদিল রশীদ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে আত্মপ্রকাশ ঘটে আদিলের। এরপর থেকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বিশ্বকাপে বল হাতে কার্যকারী ভূমিকা রাখেন তিনি। ১১ ম্যাচে ৯২ ওভারে তুলে নেন ১১ উইকেট। ৫.৭১ ইকোনমিতে ৫৬২ রান খরচায় বেস্ট ইনিংস ছিল তার ৩/৫৪।

আলী

মঈন আলী : পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দলের আরেক সদস্য অলরাউন্ডার মঈন আলী। ছন্দে না থাকলেও একটা সময় ছিল তার হাত ধরেই জয়ের স্বপ্ন দেখত ইংল্যান্ড। দ্বাদশ বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচের ৫ ইনিংসে ৭৫ রান করেন এই অলরাউন্ডার। বল হাতে সমান সংখ্যক ইনিংসে শিকার করেন ৫ উইকেট।

আর্চার

জফরা আর্চার : ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের আরেক মহানায়ক জফরা আর্চার। প্রথমে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক না পেলেও পরবর্তীতে ডাক পান উইন্ডিজের বংশোদ্ভূত এই পেস তারকা। বারবাডিয়ানে জন্ম নেয়া এই তারকা বল হাতে এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয় সফল ব্যক্তি। ১১ ম্যাচে ১০০.৫ ওভারে ৪৬১ রান খরচায় তুলে নেন ২০টি উইকেট। যা টুর্নামেন্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ৪.৫৭ ইকোনমিতে ৮ মেডেনে বেস্ট ইনিংস ছিল ৩/২৭। 

কুরান

টম কুরান : বাবা খেলেছেন এক দেশের জার্সিতে। ছেলে খেলছেন অন্য দেশের হয়ে। এমন প্রোফাইল রয়েছে ইংল্যান্ডের আরেক অলরাউন্ডার টম কুরানের। টমের বাবা কেভিন কুরান খেলেছিলেন জিম্বাবুয়ের হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে জন্মানো টম এখন বিশ্বের অন্যতম তরুণ প্রতিভা। স্কোয়াডে ডাক পেলেও বিশ্বকাপে অভিষেক হয়নি তার।

ওডি/এসএম

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড