• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬  |   ৩৫ °সে
  • বেটা ভার্সন

বিশ্বকাপ ১৯৭৫ : অভিষেক আসরের স্মরণীয় কীর্তি

  জুবায়ের আহম্মেদ

১৬ মে ২০১৯, ১৩:৩১
গ্যারি গিলমোর
গ্যারি গিলমোর (ছবি : সংগৃহীত)

১৯৭৫ সাল। ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রথম বৈশ্বিক আসর বসল ক্রিকেটের পিতৃভূমি ইংল্যান্ডে। প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি করলেন ইংলিশ ক্রিকেটার ডেনিস অ্যামিস। তার ১৩৭ রানের ইনিংসটি ইংলিশদের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ হয়ে রইল দীর্ঘদিন। ২০১১ সালে সেটি ভাঙলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রস। অ্যামিসের মতো তার সেঞ্চুরিও ছিল ভারতের বিপক্ষে।

প্রথম বিশ্বকাপ, ৮ দল পেল ইংল্যান্ডের টিকেট। আইসিসির পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের পাশাপাশি খেলল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সঙ্গে সহযোগী দুই রাষ্ট্র পূর্ব আফ্রিকা এবং শ্রীলঙ্কা।

বিশ্বকাপের অভিষেক আসরের শিরোপা জিতেছিল ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বিশ্বকাপে মূল আলো ছিল দুজনের ওপর- একজন নিউজিল্যান্ডের, আরেকজন অস্ট্রেলিয়ার। কিউই গ্লেন টার্নার ছিলেন ব্যাট হাতে বিস্ময়। ৪ ম্যাচে করেছিলেন ৩৩৩ রান। আর বল হাতে অজি গ্যারি গিলমোর ছিলেন দুর্বোধ্য। ২ ম্যাচ খেলেই নিয়েছিলেন ১১ উইকেট। বিশ্বকাপ নিয়ে 'দৈনিক অধিকার'- এর বিশেষ আয়োজনে ১৯৭৫ আসরের নানা পরিসংখ্যান দেখে নিতে পারেন এক নজরে।

সর্বোচ্চ রান- গ্লেন টার্নার (৩৩৩ রান)

২০১৫ আসরের আগে বিশ্বকাপে ৭ বার সেমিতে আটকা পড়েছিল নিউজিল্যান্ড। আর এই দুর্দশার প্রথম মঞ্চায়ন হয়েছিল প্রথম বিশ্বকাপেই। সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে বাদ পড়লেও কিউই ব্যাটসম্যান টার্নার হয়ে গিয়েছেন ইতিহাসের অংশ। 

গ্লেন টার্নার (ছবি : সংগৃহীত)

৪ ম্যাচে টার্নার ১৬৬.৫০ গড়ে করেন ৩৩৩ রান। দুটিতে হাঁকান সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৭১ রান। সেটাও বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে! পরে ভারতের সঙ্গে খেলেন ১১৪ রানের আরেকটি মহাকাব্যিক ইনিংস। রান সংগ্রহে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন অ্যামিস। ৪ ম্যাচে তার রান ২৪৩। বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান অ্যামিস অবশ্য পরের ম্যাচগুলোতে খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি। এই তালিকায় তিনে ছিলেন ৩ ম্যাচে ২০৯ রান করা পাকিস্তানের মাজিদ খান।

সর্বোচ্চ উইকেট- গ্যারি গিলমোর (১১ উইকেট)

খেলেন মাত্র ২ ম্যাচ। সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল। তাতেই অলরাউন্ডার গিলমোর চমকে দেন সবাইকে। সেমিতে ফেভারিট ইংল্যান্ড তার একার বোলিং তোপে গুটিয়ে যায় মাত্র ৯৩ রানে। তখন ওয়ানডে খেলা হতো ৬০ ওভারে। ম্যাচে গিলমোর বল করেন ১২ ওভার। ১৪ রানে নেন ৬ উইকেট। লক্ষ্য তাড়ায় ৪০ পেরুনোর আগে অজিদের ৬ উইকেট চলে গেলে ব্যাট হাতেও দলের হাল ধরেন এই অলরাউন্ডার।

একই চিত্র ফাইনালের ঐতিহাসিক মঞ্চেও। ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং লাইনআপের ৫ জনকে একাই প্যাভিলিয়নে ফেরান গিলমোর। যদিও লয়েডের অসাধারণ শতকে শিরোপা ঘরে তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজই। পরের স্থানটি দুই ক্যারিবিয়ানের দখলে। বার্নাড জুলিয়ান এবং কিথ বয়েস, দুজনেই নেন ১০টি করে উইকেট। তবে তারা প্রত্যেকে খেলেন ৫টি করে ম্যাচ।

সেরা পার্টনারশিপ- অ্যালান টার্নার এবং রিক ম্যাককস্কার (১৮২ রান)

ওভালে সহযোগী দেশ শ্রীলঙ্কার বিপরীতে মাঠে নেমেছিল আস্ট্রেলিয়া। প্রথম উইকেট জুটিতেই রিক ম্যাককস্কার এবং অ্যালান টার্নার জানান দিনটি লঙ্কানদের নয়। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৮২ রান। যা হয়ে রইল ওই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপের রেকর্ড। পরের স্থানে ইংল্যান্ডের অ্যামিস এবং কিথ ফ্লেচারের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে করা ১৭৬ রানের পার্টনারশিপ।

অ্যালান টার্নার (ছবি : সংগৃহীত)

সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস- গ্লেন টার্নার (১৭১*)

বার্মিংহামের ব্যাটিং উইকেটে সহযোগী দেশ পূর্ব আফ্রিকার বিপক্ষে টার্নারের খেলা ১৭১ রানের অপরাজিত ইনিংসটি বিশ্বকাপে কিউইদের হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস হয়ে আছে। ১৯৭৫ বিশ্বকাপে সেটাই ছিল ব্যক্তিগত সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্স। ২০১ বলের ওই ইনিংসে চার ছিল ১৬টি। আর ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি বলকে সীমানা ছাড়া করেছিলেন ২ বার।

সেরা বোলিং ফিগার- গ্যারি গিলমোর (৬/১৪)

ইনিংস সেরা বোলিং পারফরম্যান্সের তালিকায় প্রথম তিনটি স্থানই অজিদের দখলে। সেমিফাইনালের গিলমোরের আগুনে বোলিং অনুমিতভাবেই আছে শীর্ষে। ১৪ রান দিয়ে গিলমোর শিকার করেন ৬টি উইকেট। লিডসে ইংলিশদের শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গের জন্য সেটিই ছিল যথেষ্ট।

সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল- রড মার্শ (১০ টি)

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে মার্শ পরিবারের কথা কারও অজানা নয়। দুই ভাই শন মার্শ এবং মিচেল মার্শ বর্তমানে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আর তাদের বাবা রড মার্শ ছিলেন প্রথম বিশকাপ স্কোয়াডে। উইকেটরক্ষক মার্শ ৫ ম্যাচে ৯ ক্যাচ আর ১ স্ট্যাম্পিংয়ের সাহায্যে মোট ১০টি ডিসমিসাল করেন, যা প্রথম বিশ্বকাপের উইকেটরক্ষকদের মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স।

ওডি/এসএইচ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মোঃ তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৮-২০১৯

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড