• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আমি ডেকে আনি, মেরেছে বড় ভাইরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৪৩
আবরার হত্যা
বাঁয়ে আবরার ফাহাদ ও ডানে মামলার এজহারভুক্ত আসামী নাজমুস সাদাত (ছবি: সংগৃহীত)

বুয়েটের পাঁচ ছাত্রলীগ নেতার নির্দেশে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবরার ফাহাদকে তার রুম থেকে ডেকে আনেন এ এস এম নাজমুস সাকিব। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় এমনটাই দাবি করেন তিনি।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে আবরার হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি নাজমুস সাদাতের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না। ফলে বিচারক সাদাতের কাছে জানতে চান তার কিছু বলার আছে কি না? 

বিচারকের প্রশ্নের উত্তরে সাদাত বলেন, স্যার, আমি বড় ভাইদের কথায় আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে আনি। পরে বড়ভাই অনিক, সকাল, মুজাহিদ, রবিন ও মনির রুমের মধ্যে আবরারকে দফায় দফায় মারে। এক সময় স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে প্রচণ্ড পেটাতে থাকে অনিক। তখন রুমে উপস্থিত অন্যরা ভয় পেয়ে যায়।

সাদাত আরও বলেন, এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আবরারকে পেটায় অনিক। তার মারের পরই আবরারের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেয়া হয় নাই। আমরা ভাইদের বলেছিলাম হাসপাতালে নিয়ে যেতে, ভাইরা নিতে দেয় নাই। আবরার বমি করে। আমি আবরারকে মারিনি। আমি রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুম থেকে চলে আসি। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না।

এছাড়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদেও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন সাদাত।

আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান এ আবেদন করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত নাজমুস সাদাতের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়ে থাকতে পারে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এর ফলেই রক্তক্ষরণ বা ব্যথার কারণে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।

ওডি/এমএমএ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড