• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ফাহাদ হত্যায় আদালতে স্বীকারোক্তি

সিস্টেমে নিষ্ঠুর আসামিরা, স্বীকারোক্তিতে হতভম্ব আদালত!

  ঢাবি প্রতিনিধি

১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৪
আবরার হত্যা
আবরার হত্যার দুই আসামি (ছবি : সংগৃহীত)

চাঞ্চল্যকর তথ্য নির্ভর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার আসামি অনিক সরকার। তার জবানবন্দি শুনে হতভম্ব আদালত! এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই নিরব হয়ে যান।

আদালত সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। আদালতে অনিক সরকার বলেন, ‘সিনিয়র-জুনিয়র যেই হোক, আমরা তাদের এভাবেই পেটাতাম। কিন্তু দুর্ঘটনাক্রমে আবরারের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের মতের সঙ্গে না মিললে কাউকে পিটিয়ে বের করে দিতে পারলে; ছাত্রলীগের হাইকমান্ড আমাদের প্রশংসা করত। ছাত্রলীগের এ সিস্টেমটাই আমাদের এমন নিষ্ঠুর বানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আবরারের মৃত্যুর জন্য সবাই আমাকে দোষ দিচ্ছে। কিন্তু আমি তো শুধু সিনিয়রদের নির্দেশনা মতো কাজ করেছি। সিনিয়ররা আমাকে ভয়ও দেখাচ্ছিল, ব্যর্থ হলে আমাকে এর ফল বহন করতে হবে। বুয়েটে ছাত্রলীগ এভাবেই কাজ করে।’

বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান রবিনকে এজন্য দায়ী করলেন অনিক। তিনি বললেন, ‘আমি তো এমন ছিলাম না। নটর ডেম থেকে যখন বুয়েটে পড়তে আসি তখন খুব হাসিখুশি ছিলাম। জানি না কীভাবে এমন হয়ে গেলাম।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১২ অক্টোবর) বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে দেখা যায়, আবরারের মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী মনে করছেন তিনি। তবে আবরারকে হত্যা করার উদ্দেশ্য তাদের ছিল না, সে কথাও জানান অনিক।

রবিবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়ে থাকতে পারে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এর ফলেই রক্তক্ষরণ বা ব্যথার কারণে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ।

ওডি/এসএইচএস/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড