• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

ধর্ষকের সঙ্গে থানায় বিয়ে, পর্যবেক্ষণে রেখেছেন হাইকোর্ট

  সারাদেশ ডেস্ক

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:১৯
হাইকোর্ট
হাইকোর্ট (ছবি : সংগৃহীত)

পাবনায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানার ভেতরেই ধর্ষকের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি বিষয়টিতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, তার দিকেও নজরদারি রাখছেন আদালত। আদালত বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আগে দেখি, প্রশাসন এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়।’ 

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনালে আদালত এ মন্তব্য করেন। এদিন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল, ব্যারিস্টার গাজী ফরহাদ রেজা ও অ্যাডভোকেট রোহানী সিদ্দিকা থানায় ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। 

এ সময় পাবনার সদর থানায় ধর্ষণ ও বিয়ে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল। তিনি বলেন, ওসি নিজেই গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের মূল আসামির সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপরাধীকে ধরার কথা, সেখানে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। তাই ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।

ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণের পর আদালত বলেন, ‘প্রশাসনতো এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। টিভিতে দেখলাম মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ওসিকেও শোকজ করা হয়েছে।’

জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘ওসিকে শোকজ করা হয়েছে ঠিক। কিন্তু পত্রিকায় দেখেছি, ভিকটিমসহ বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে কাজীকে ওসির লোকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এটা সত্য হলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। ঘটনাও ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।’

পরে আদালত বলেন, আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। আগে দেখি, প্রশাসন এ ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তখন আসবেন। তখন আমরা বিষয়টি দেখব। 

এ দিকে, গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানার মধ্যেই ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানার ভেতরে অভিযুক্ত এক ধর্ষকের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হকের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনগুলো অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পাবনা সদর থানায় এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনায় তারা মামলা করতে চাইলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের মুখে মামলা না নিয়ে ওসি উল্টো গৃহবধূর স্বামীকে তালাক দেওয়ায় এবং ধর্ষক রাসেল আহমেদের সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেন।

অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে গৃহবধূর বিয়ের বিষয়টি পুলিশ স্বীকার করলেও ঘটনাটি থানার মধ্যে ঘটেনি বলে তারা দাবি করছেন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীসহ ওই গ্রামের সকলের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। 

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ তার চারজন সহযোগীকে নিয়ে তিন সন্তানের জননী ওই গৃহবধূকে অপহরণ করে। পরে চার দিন অজ্ঞাত একটি স্থানে তাকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে অপহরণকারীরা। 

পরে কৌশলে পালিয়ে এসে স্বজনদের বিষয়টি জানালে তারা ৫ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। এরপর ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্ত ধর্ষক রাসেলকে আটক করে। তবে, বিষয়টি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত না করে পুলিশ ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

ওডি/আইএইচএন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড