• শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

গর্ভের সন্তান নষ্ট, শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলায় পুত্রবধূর নারাজি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৫
দিলদার আহমেদ ও ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা
দিলদার আহমেদ ও ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা (ছবি : সংগৃহীত)

আলোচিত সোনা ব্যবসায়ী দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে করা মামলা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন পুত্রবধূ ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা। তিনি বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের স্ত্রী। মামলাটি তুলে নিতে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন পিয়াসা।

রবিবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে মামলায় নারাজি দেওয়ার পর পিয়াসা এসব কথা বলেন। আদালত নারাজির ওপর শুনানি করতে ১ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেছেন।

দিলদার আহমেদের পুত্রবধূ পিয়াসা বলেন, নারী নির্যাতন ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে আমার শ্বশুরসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এ মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)  নির্দেশ দেন আদালত। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান আমার কাছে অবৈধভাবে অর্থ দাবি করেন। আমি টাকা না দেওয়ায় তিনি আদালতে আমার শ্বশুরের পক্ষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমি আজ এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দিয়েছি।

পিয়াসার মামলার সত্যতা খুঁজে পায়নি বলে গত ২৮ জুলাই একই আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, দিলদার আহমেদ সেলিম ও আপন রিয়েল এস্টেটের পরামর্শক ও তত্ত্বাবধায়ক মো. মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

১১ মার্চ ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদের স্ত্রী পিয়াসার আবেদনে আপন রিয়েল স্টেটের উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমানকেও আসামি করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে বাদী পিয়াসা বলেছিলেন, পারিবারিকভাবে সাফাত ও আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর বাড়িতে বাস করে আসছি। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর দিলদার আহমেদ আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছেন। আমাকে তালাক দিতে সাফাতকে চাপ প্রয়োগ করেন। সাফাত আমাকে তালাক না দিলে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার হুমকিও দেন।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, সাফাত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকার পর গত ৩১ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান। এরপর তাকে নির্যাতনের বিষয়গুলো জানিয়েছি। এতে শ্বশুর আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমি ও সাফাত একসঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৩ ফেব্রুয়ারি তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। সাফাত কারাগারে যাওয়ার পর দিলদার আহমেদ ও তার সহযোগী মোখলেছুর রহমান আমাকে নির্যাতন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ৫ মার্চ নিয়মিত গাইনি চিকিৎসক দেখানোর অংশ হিসেবে ও সাফাতের আদালতে হাজিরা থাকায় দেখার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই। পরে বাসার গেটে প্রবেশ করা মাত্রই শ্বশুর ও মোখলেছুর রহমান আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এ সময় আমার কাছে থাকা ২ লাখ টাকা, গলায় থাকা ৫ ভরি স্বর্ণের নেকলেস, হাতে থাকা দুই ভরি স্বর্ণের চুড়ি ও দুটি হীরার আংটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন তারা। যার বাজার দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমি বাসায় ঢুকতে চাইলে শ্বশুর আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেন। বলেন, এ মুহূর্তে বাসা থেকে বের হয়ে যাবি, না হলে তোকে গুলি করে মারব। আমি ২ মাসের গর্ভবতী ছিলাম। গর্ভের সন্তানকে নষ্টের উদ্দেশ্যে তিনি তলপেটে লাথি মারার চেষ্টা করেন এবং ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন। পরদিন দরকারি জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য এলে তিনি বলেন, আমার বাসায় আর কখনো আসলে তোকে প্রাণে শেষ করে দেব। এরপর চড়-থাপ্পড় মেরে আমাকে বাসা থেকে বের করে দেন।

ওডি/এমআর

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড