ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত : খালেদার জামিন আবেদন

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯, ১৩:৪৯

  অধিকার ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার  (১৪ মার্চ) ঢাকার মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে এ আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

মামলার শুনানিতে মাসুদ আহমেদ  বলেন, ‘আমরা কারাগার থেকে ওকালতনামায় খালেদা জিয়ার সই নিয়ে এসেছি।  তিনি কোনও অপরাধ করেননি। রাজনৈতিকভাবে তাকে হয়রানি করতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। আমরা আশা করছি, ওইসব মামলায়  তিনি জামিন পেয়ে দ্রুত কারামুক্ত হবেন।’

অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারক মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদেশের জন্য রাখেন। শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন- মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী। 

এর আগে জানুয়ারি মাসের ২০ তারিখে কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন একই আদালত।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মামলার অভিযোগে  উল্লেখ করা হয়— ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসের ১৪ তারিখ বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি)-এর মিলনায়তনে শুভ বিজয়া অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে আছে। আসলে দলটি ধর্মহীনতায় বিশ্বাসী। আওয়ামী লীগের কাছে কোনও ধর্মের মানুষ নিরাপদ নয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে। হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে।’ এছাড়া ‘খালেদা জিয়ার এসব বক্তব্য যেমন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে, তেমনি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে শ্রেণিগত বিভেদও সৃষ্টি করেছে,’ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ওই বক্তব্যের জন্য ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলাটি দায়ের করেন। এরপর গত বছরের জুন মাসের ৩০ তারিখে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস।