• বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

অভিজিৎ হত্যার ৫ বছর

  মনিরুল ইসলাম মনি

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:৩০
অভিজিৎ রায়
বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় (ছবি : সংগৃহীত)

অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় তিনি খুন হন। এতে তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর দিন অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ চার বছর এই মামলার কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি প্রশাসন। দীর্ঘ তিন বছর পর মামলাটির তদন্ত করে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

এরপর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়।

২০১৯ সালের ১ আগস্ট ঢাকা সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ৬ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাবা-মাকে দেখার জন্য অভিজিৎ রায় তার স্ত্রীসহ ঢাকা আসেন। ওই বইমেলায় তার দুইটি বই প্রকাশিত হয়। এ উপলক্ষে মাঝে মাঝে বই মেলায় যেত অভিজিৎ। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বইমেলায় যায়। মেলা থেকে ফেরার সময় রাত সাড়ে ৮টায় টিএসসি চত্বরের সামনে এক বা একাধিক অজ্ঞাত পরিচয় যুবক অভিজিৎ রায় ও তার সহধর্মিণী বন্যা আহমেদকে চাপাতি দিয়ে মাথার পেছনে মারাত্মকভাবে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে এবং তার মাথার পেছনে খুলি ভেঙে মগজ বেরিয়ে আসে। তার সহধর্মিণী তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে সেও গুরুতরভাবে আহত হয়। পথচারীরা তাদের দুইজনকে সিএনজিযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টায় অভিজিৎ রায় মারা যান।

পুলিশ জানায়, এ মামলায় মোট অভিযুক্ত করা হয়েছে ১২ জন আসামিকে। হত্যা সংশ্লিষ্ট মোট ৩০টি আলামত সংগ্রহ করা হয়। এজাহার অনুযায়ী এ মামলাটির মোট সাক্ষী ৩১ জন। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তিনজনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। দীর্ঘ তদন্তে মামলার ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ১২ জন সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। কিন্তু ১২ জনের মধ্যে ৫ জনের সঠিক নাম ঠিকানা পায়নি কাউন্টার টেররিজম।

পুলিশ জানায়, শনাক্তকৃত সাতজনের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে ২ জন পলাতক আছেন আর একজন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। 

এ মামলায় গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ও শাফিউর রহমান ফারাবী।

অভিযানের সময় নিহত হোন মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ইসলাম ওরফে হাদী। আর এই মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী গোলাম সারোয়ার খান জাকির বলেন, মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই ৬ আসামির মধ্যে চারজন কারাগারে। দুইজন এখনো পলাতক। এ পর্যন্ত ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে এ বছরের শেষ নাগাদ রায় পাওয়ার আশা করছি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে।

আরও পড়ুন : পাপিয়াকে নিয়ে মুখ খুলছে আ. লীগ নেতারা

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১ লা মার্চ অভিজিতের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে রাখা হয়, সেখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তাকে শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। অভিজিৎ রায়ের ইচ্ছানুসারে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণার জন্য দেওয়া হয়।

মৃত্যুর পূর্বে প্রকাশিত অভিজিৎ রায়ের বইগুলো হলো- আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী (২০০৫), মহাবিশ্বে প্রাণ ও বুদ্ধিমত্তার খোঁজে (২০০৭), স্বতন্ত্র ভাবনা : মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি (২০০৮), সমকামিতা: বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান (২০১০), ভালবাসা কারে কয় (২০১২), শূন্য থেকে মহাবিশ্ব (২০১৪), বিশ্বাসের ভাইরাস (২০১৪) অন্যতম।

ওডি/এমআই/টিএএফ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড