• সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

পিলখানা মামলার রায়ের কপি মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:০৪
পিলখানা
পিলখানা হত্যা মামলার রায়ের অনুলিপি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে হস্তান্তর (ছবি : সংগৃহীত)

আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলার উচ্চ আদালতের রায়ের অনুলিপি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। গবেষক ও দর্শনার্থীদের জন্য এ রায় সংরক্ষণ করা হবে।

পিলখানা হত্যা মামলার রায়ের ১৬ হাজার ৫শ ৫২ পৃষ্ঠার ৩৩টি ভলিউম লিখেন হাইকোর্টের বৃহত্তর বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। যা সম্পূর্ণই মাতৃভাষা বাংলায় লেখা।

রায়ের অনুলিপি সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় তুলে দেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। আর অনুলিপি গ্রহণ করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে গিয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলীর নিকট পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় হস্তান্তর করেন। 

এ সময় আমাই মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী ভলিউমগুলো গ্রহণ করে তাদের স্বাগত জানান। অনুলিপি গ্রহণের সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন—আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনষ্টিটিউটের পরিচালক (ভাষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) শফীউল মুজ নবীন, উপপরিচালক মাহবুবা আক্তার, নাজমুন নাহার ও মিজানুর রহমান প্রমুখ।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে রায়ের অনুলিপি হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন—সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি রেজিস্টার মো. আব্দুর রহমান, সহকারী রেজিস্টার ওমর হায়দার ও বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে আমাই মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. জীনাত ইমতিয়াজ আলী বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে একটি সমৃদ্ধ জাদুঘর ও একটি বিশ্বের লিখন-বিধি আর্কাইভ রয়েছে। রায়ের অনুলিপি বিশ্বের লিখন-বিধি আর্কাইভে গবেষক ও দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু বিচারকগণকে সহজ ভাষা বাংলায় রায় লেখার কথা বলতেন। বৃহৎ ও বাংলায় এই রায় প্রদানের মাধ্যমে জাতির পিতার সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য পিলখানা হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চে গত ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়। আসামি ও রায়ের পৃষ্ঠার সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বিচার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মামলা হিসেবে পরিচিত। বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের বিচারপতিগণ ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় ভিন্ন পর্যবেক্ষণে রায় লিখেছেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা রায়কে পূর্ণ সমর্থন করেছেন।

রায়ের অনুলিপি হস্তান্তরকালে সুপ্রিম কোর্ট মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর লেখা ২৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৪৬৮ শব্দের যুগান্তকারী এ রায় বিশ্বের বিচার বিভাগের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ হিসেবে ইতোমধ্যেই একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ভাষার মাসে রায়ের কপি হস্তান্তরের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হলো।

এর আগে, মাতৃভাষা বাংলায় লেখা পিলখানা হত্যা মামলার রায়ের অনুলিপি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল বরারব গত ৩ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী একটি চিঠি লিখেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ বেঞ্চে বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলার রায় গত ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর বাংলায় লেখা রায়ের কপি আমরা সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক। উচ্চ আদালত কর্তৃক ১৬ হাজার ৫৫২ পৃষ্ঠার রায়ের একটি অনুলিপি জাতীয় স্বার্থে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’ এরপরই রায়ের অনুলিপি প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ।

এখন থেকে রায়ের অনুলিপি বিশ্বের লিখন-বিধি আর্কাইভে গবেষক ও দর্শনার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, দেশ-বিদেশে বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের বৃহত্তর বিশেষ বেঞ্চের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। রায়টি প্রকাশের সময়কাল ঐতিহাসিক দিক বিবেচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ) এবং ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ২৪ জানুয়ারি (১৯৬৯) ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবসে বঙ্গবন্ধু আয়ুব খানের কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২১ ফেব্রুয়ারি (১৯৫২) মাতৃভাষা বাংলার জন্য এ দেশের ছাত্র-জনতা রাজপথের আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করে, যা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এছাড়া বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গবেষণামূলক পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত রায়ের প্রাসঙ্গিক অংশ পাঠ করার সুযোগ হয়েছে। 

পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য মতে, মাতৃভাষায় লেখা ১৬,৫৫২ পাতার রায়ে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৮টি শব্দ ব্যবহার হয়েছে। তথ্যটি জেনে সকলেই রীতিমতো বিস্মিত হয়েছে। কারণ কেবলমাত্র মাতৃভাষায় নয়, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় পৃথিবীতে এত বড় রায় আজ অবধি লেখা হয়নি।

ওডি/এমআই

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড