• রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মহানগর আদালতে আবরার হত্যা মামলা

  আদালত প্রতিবেদক

১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১:০২
আবরার ফাহাদ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার নথি ঢাকা মহানগর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মহানগর আদালতের সেরেস্তাদার মামলার নথিটি গ্রহণ করে এ বিষয়টি বিচারককেও জানিয়েছেন সেরেস্তাদার। বিচারক মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের (অভিযোগ গঠন) জন্য শিগগিরই তারিখ নির্ধারণ করবেন।

ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বদলির আদেশ দেন। এ দিন পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলেন, তার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা ছিল। তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

আইন মোতাবেক মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় এ মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির জন্য সিএমএম বরাবর নথি পাঠান বিচারক। ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) জাহিদুল কবির মামলার নথি সোমবার বিকালে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ ব্যাপারে চকবাজার থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম বলেন, আবরার হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় সকালে বদলির আদেশ দেন আদালত। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম জাহিদুল কবির মামলার নথি দেখে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তার নির্দেশ মতে আমরা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তায় মামলাটির নথি জমা দেই।

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদার রাশেদুল ইসলাম বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলার নথি চকবাজার থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা আমাদের কাছে দাখিল করেন। আমরা মামলার নথি রিসিভ করি। মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশকে মামলার বিষয় জানানো হয়েছে। তিনি শিগগিরই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন নির্ধারণ করবেন।

এর আগে রবিবার (১২ জানুয়ারি) পলাতক থাকা এজাহারভুক্ত আসামি বুয়েট শিক্ষার্থী মোর্শেদ অমত্য ইসলাম আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ মামলায় চলতি মাসের ৫ তারিখে চার পলাতক শিক্ষার্থীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলেন আদালত, সোমবার যার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা ছিল।

২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ নভেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চার্জশিটে ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন এবং এর বাইরে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আরও ৬ জনের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন এবং এজাহারবহির্ভূত ৬ জনের মধ্যে ৫ জনসহ মোট ২২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চার্জশিটে ৬০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এবং ২১টি আলামত ও ৮টি জব্দ তালিকা আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

এজাহারনামীয় আসামিরা হলো− মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা ও এএসএম নাজমুস সাদাত।

এজাহার বহির্ভূতে আসামিরা হলো− ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, এসএম মাহমুদ সেতু ও রাফি। এর মধ্যে ১৬ জনের নাম হত্যা মামলার এজাহারে উল্লেখ ছিল। বাকিদের নাম তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় খুন হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে গত বছরের ৫ অক্টোবর শনিবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ। এর জের ধরে ৬ অক্টোবর রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশকে খবর দেয় মারধরের সঙ্গে জড়িতরা।

তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলিট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন : আবরার হত্যা মামলা বদলির আদেশ

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ইতোমধ্যে পুলিশ ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে। ১৩ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ৬ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

ওডি/এএস

jachai
nite
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
jachai

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড