• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ২২ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মামার ঘরেই হত্যা করে লাশ ফেলা হয় বাগানে

  শিমুল হাসান, নড়াইল

২০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৪৯
রমজান
রমজান হত্যাকারী মিম ( ছবি : দৈনিক অধিকার )

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সিংগা গ্রামের নির্মমতার শিকার ছেলেটিই হলো শিশু রমজান। মাত্র দেড় বছর বয়সে মা মাবিয়াকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে রমজান। আর বাবা মো. ইলিয়াস শেখ জন্মের আগে ও পরে বাবা হিসেবে রমজানের পরিচয়ই দিতে চায়নি।

এ নিয়ে আদালতে মামলা হওয়ায় রমজানকে সন্তান হিসাবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হন ইলিয়াস শেখ। আদালতের সিদ্ধান্তে ভরণপোষণও দিতে হয় ইলিয়াসকে। নিয়মিত ভরণপোষণের টাকা না দেওয়ায় ইলিয়াসকে কারাগারেও যেতে হয়। 

সিংগা গ্রামে নানা হবিবর শেখের বাড়িতেই বড় হয় রমজান। সঙ্গে মাও থাকতেন। একপর্যায়ে রোগে-শোকে মা মাবিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর চরম অসহায় হয়ে পড়ে রমজান। নানা-নানি, খালা-খালু, মামি, খালাতো-মামাতো ভাই-বোনের আদর স্নেহে বড় হয় রমজান। এরপর সিংগা- মশাঘুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেওয়া হয়। স্কুলে অভিভাবকের নামের জায়গায় বাবা-মায়ের নাম ছিল না। ছিল নানী আয়শা বেগমের নাম। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিশু রমজান নানির কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে স্কুলে যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্কুল ছুটি হলে নানার বাড়িতেই ফিরে আসে রমজান। মামা ইউসুফ শেখের ঘরে রমজান, মিম ও মামাতো বোন ময়না ছিল। আর এখানেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। রমজান মিমকে ডিম বলে ডাক দিয়ে খ্যাপাচ্ছিল। এতে চরম ক্ষেপে যায় মিম। একপর্যায়ে মিম মারধর শুরু করে রমজানকে। এরপর মিম রমজানের গলা টিপে ধরে। এ সময় শ্বাসরোধে রমজানের মৃত্য হয়। 

রমজানের স্কুলের সহকারী শিক্ষক জগন্নাথ কুমার দাস, খাদিজা পারভীন, সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সভ্যপ্রকৃতির ছেলে ছিল রমজান। ঘটনার দিন স্কুল শেষে সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি চলে যায় সে। এরপর দুপুর ২টার দিকে রমজানের খালা স্কুলে এসে শিক্ষকদের জানায়, রমজান কোথায়? তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময় শিক্ষকরা বলেন, স্কুল ছুটির পর সে বাড়ি চলে গেছে। 

সর্বশেষ রবিবার দুপুরে রমজানের নানা বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নানী ঘরের মধ্যে। সাংবাদিক দেখে বেরিয়ে আসেন তিনি। খুব স্বাভাবিকভাবেই আগের মতো কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার রমজান ভালো ছিল। সুখেই ছিল। ওর বাবা ও সৎ মা হত্যা করেছে। 

মামলার বাদী রমজানের নানা জানান, হত্যাকারী যদি আমার আত্মীয়ও হয় তাকে গ্রেফতার করুক পুলিশ। আমি প্রকৃত হত্যাকারীদের শাস্তি চাই। 

লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোকাররম হোসেন জানান, শিশুর খালাতো বোন মিম শ্বাসরোধে রমজানকে হত্যা করে। পরে তারা লাশ বাগানে রেখে আসে এবং প্রচার করা হয় রমজান স্কুল থেকে ফিরে আসেনি। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রমজানের নানার পরিবার কল্পকাহিনী তৈরি করে তা প্রচার করছে। 

ওডি/এসএএফ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড