• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুই চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বে এলাকাবাসীর ভোগান্তি

  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

২০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১২
মুন্সীগঞ্জ
খানাখন্দে জর্জরিত হয়ে পড়ে আছে রাস্তা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ মো. ফজলুল হক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম সোহরাব হোসেনের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব থাকার কারণে দীর্ঘদিন যাবত ভোগান্তি পোহাচ্ছে ওই ইউনিয়নের কমলাপুর ও চর নিমতলা গ্রামের প্রায় ৪ হাজার মানুষ।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কমলাপুর থেকে নিমতলা হয়ে লতব্দী পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবত বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বিশেষ করে চর নিমতলা ঈদগাহের মোড় থেকে তাজির মুল্লুকের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকার ফলে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম সোহরাব হোসেন ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ওই রাস্তাটির কোনো কাজ করাননি। এমনকি তিনি রাস্তাটির সংস্কারও করাননি বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ তোলেন।

নিমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. আরজুদা বেগম বলেন, অনেকদিন যাবত রাস্তাটি বেহাল অবস্থা। বাচ্চারা স্কুলে আসতে কষ্ট হয়। একটু বৃষ্টি আসলেই রাস্তাটার মাঝে পানি জমে থাকে। তখন বাচ্চাদের অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে আসতে হয়। অনেকে বাড়ির ওপর দিয়ে আসতে দেয় না। আমাদেরও আসা যাওয়া করতে কষ্ট হয়। বাচ্চারা স্কুলে আসার সময় গর্তে পড়ে ভিজে যায়। এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ মো. ফজলুল হক বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় কমলাপুর থেকে নিমতলা হয়ে লতব্দী পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মাণ করি এবং পরবর্তীতে ইটের সলিং করি। গ্রামের রাস্তা কিছুদিন পর পর ভেঙে যায়। দুর্ভাগ্যের বিষয় ২০১৫ সালের নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষ সোহরাব সাহেব নির্বাচিত হয়। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর এই রাস্তাটির কোনো কাজই করে নাই। আমার গ্রামের প্রায় ৪ হাজার লোক এই রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু গত চারটি বছরে চার টাকার অনুদান দেয় নাই এবং এক ওড়া মাটিও তিনি ফালায় নাই। 

আমি অনেক কান্নাকাটি করে উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে বলে অল্প একটু জায়গায় ইটের সলিং করে মেরামত করি। বাকি পুরো রাস্তাটাই ভেঙে খানাখন্দে জর্জরিত হয়ে পড়ে আছে। মানুষ হেঁটে যাওয়ার সময় পা গর্তে ঢুকে যায়। মানুষজন গাড়ী নিয়েও যাতায়াত করতে পারে না। সামান্য বৃষ্টি হলে জায়গায় জায়গায় পানি জমে কাদা হয়ে থাকে। 

দৈনিক অধিকার

খানাখন্দে জর্জরিত হয়ে পড়ে আছে রাস্তা

আমার অত্যন্ত দুঃখ হলো এই জন্য যে, আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় দেখেছি প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে প্রত্যেকটি এলাকায় কম বেশি কিছু বরাদ্দ থাকে। এলডিএসপির মধ্যে প্রতি বছর ৬০-৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকে। এই বরাদ্দের একটা অংশ প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দিতে হয়। আমার এই ওয়ার্ডে গত চার বছরে এক টাকাও বরাদ্দ আসে নাই। এই ওয়ার্ডের উন্নয়ন বরাদ্দ যায় কোথায় সেটাও বুঝি না? এই এলাকার মানুষগুলো কি অন্যায় করেছে? তাদের রাস্তাঘাট কেন নির্মাণ হয় না? আমার আবেদন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানে কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ার সারা দেশ ভাসলেও আমার এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং এক ওড়া মাটি পড়ে না কেন? এর জবাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমি চাই।

এ ব্যাপারে লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম সোহরাব হোসেন বলেন, তিন বছরে আমি যে কাজ করেছি এই কাজগুলো দেখে বাকি যে কোনো ইউনিয়নে গিয়ে আমার কাজের সাথে মিলিয়ে দেখেন। আর আগের চেয়ারম্যান সাহেব যে অভিযোগ দিয়েছে ওনার বাড়িঘর ঐখানে, ৫ বছর চেয়ারম্যান থেকে উনি কি কাজ করেছে? একটা কাজ দেখান!

আমি বিগত তিন বছরে আমার ইউনিয়নে ৫০টা কাজ দেখাব যে কাজগুলো আমি করেছি। ৯টা ওয়ার্ডের কাজ একসাথে করা সম্ভব না। তারপরও কমলাপুর থেকে নিমতলা ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত ৮ লক্ষ টাকার কাজ করেছি এই অর্থ বছরে। এরপর ঈদগাহের পরে যে রাস্তাটুকু আছে ওই রাস্তাটুকুর জন্য ৩৫ লাখ টাকা অলরেডি বরাদ্দের পথে। উনার নিজের বাড়ির রাস্তা উনি করল না কেন? ওনার নিজের গ্রামের রাস্তা আমার করে দিতে হয় এর চেয়ে লজ্জার আর কি আছে। 

সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বীন আজাদ বলেন, আমাদের কাছে ওই রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের কোনো আবেদন হয় নাই। তবে আমি আগামীকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখব।

ওডি/আরবি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড