• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মধুমতিতে ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন হচ্ছে স্কুল, সড়ক-বসতবাড়ি

  হারুন আনসারী, ফরিদপুর

১২ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:৫৮
মধুমতির ভাঙনে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া গ্রাম
মধুমতির ভাঙনে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুরিয়া গ্রাম (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ওই উপজেলার পাঁচুরিয়া, গোপালপুর ও টগরবন্দ ইউনিয়নের তিনটি স্কুল, একটি মাদ্রাসা, মসজিদ, ঈদগাহ, কবরস্থান, পাকা সড়ক ও বসতবাড়িসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীর গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। সেই সঙ্গে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে একটি গুচ্ছগ্রাম।

মধুমতি নদীর এই ভাঙন ঝুঁকির কারণে ইতোমধ্যে গত ১৫ দিনে নদী তীরবর্তী প্রায় তিন শতাধিক পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনো অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাম হাসান জানান, তার ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে দুই কিলোমিটার জুড়ে মধুমতি নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে শিখাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দারুল সালাম দাখিল মাদ্রাসা, একটি মসজিদ ও বড় কবরস্থানসহ একটি গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬৫টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক ভাঙনের শিকার হয়েছে শিকারপুর সড়ক ও চরডাঙ্গা-চরআজমপুর সড়কটি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১১৮টি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হাসান জানান, মধুমতি নদী বাজড়া গ্রামে ভাঙনের প্রবণতা বেশি। সেখানে বাজড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অর্ধশত বসতবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নদীর ভাঙনে বাজড়া প্রাইমারি বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। 

এছাড়া পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমার সরদার জানান, দক্ষিণ পাঁচুড়িয়া গ্রামটির সবই মধুমতির কবলে বিলীন হয়ে গেছে। পশ্চিম চর-নারাণদিয়া গ্রামের প্রাইমারি স্কুল ভবন থেকে মাত্র ২০ হাত দূরে চলে এসেছে মধুমতি নদী। ফলে যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তর চর-নারাণদিয়া গ্রামের কয়েকশ বাড়িঘর, ফসলি জমি, বাঁশতলা বাজার থেকে বোয়ালমারী উপজেলার যাতায়াতের পাকা সড়কের তিন কিলোমিটার নদীগর্ভে চলে গেছে। দক্ষিণ চর-নারাণদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। 

পশ্চিম চর-নারাণদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাব খাতুন জানান, আমার বিদ্যালটি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, নদী থেকে ২০ হাত দূরে স্কুলের ভবন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঠিক মতো স্কুলে পাঠাচ্ছেন না।

তবে ভাঙন কবলিত এলাকার একাধিক মানুষ অভিযোগ করে বলেন, পাউবোর নিযুক্ত ঠিকাদার কোম্পানি নিলয় ট্রেডাস সঠিকভাবে বালুর বস্তা ফেলছে না। মাঝে মাঝে কাজ করে আবার থেমে যায়। ঠিকাদারা সঠিক কাজ করলে হয়তো কিছু সম্পদ রক্ষা করা যেত।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি আসাদুজ্জামান ভাঙন কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কথা জানিয়ে বলেন, প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধে পাউবোর মাধ্যমে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২২৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর সহায়তা দেওয়ার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম জাহিদ হাসান বলেন, পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশতলা সড়কের অধিকাংশ এবং টগরবন্দ এলাকার দুইটি পাকা সড়কের অংশিক নদীর গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।
 
ফরিদপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমাদ বলেন, নদীতে প্রচুর স্রোত। এর মধ্যে জরুরি কাজ করা কঠিন। স্রোত না কমলে কাজ করা যাবে না। তিনি জানান, মধুমতির ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ করতে ব্যয় হবে প্রায় তিনশ কোটি টাকা। কিন্তু আমরা প্রয়োজন মতো অর্থ বরাদ্দ পাচ্ছি না। 

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, জেলার পদ্মা, মধুমতি ও আড়িয়াল খায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এই ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে কাজ চলছে। আগামী শুকনো মৌসুমে স্থায়ীভাবে যাতে কাজ করা যায় সে বিষয়ে চেষ্টা চলছে।

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড