• শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

ভাঙন হুমকিতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট

  রাজবাড়ী প্রতিনিধি

০৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৪১
ফেরিঘাট
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। (ছবি : নিজস্ব)

পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে দক্ষিণ পশ্চিমঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাটসহ পুরো এলাকা রয়েছে এখন ভাঙন হুমকিতে। ইতোমধ্যে ভাঙনে পড়ে ১ ও ২ নম্বর ঘাট নদী গর্ভে চলে গেছে,৩ ও ৪ নম্বর ঘাট ভাঙনের কবলে।

তীব্র স্রোতে ব্যহত হচ্ছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল। বাকি দুটি ফেরি ঘাট ও ৬টি ফেরি দিয়ে চলছে কোন রকমে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার। এতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন সড়কে আটকে থাকা শতশত পন্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

এছাড়া স্রোতের কারণে গত ৬ দিন ধরে এরুটে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। আর ঘাটের আশ পাশের এলাকায় তীব্র নদী ভাঙনে এ পর্যন্ত প্রায় হাজারেরও বেশি মানুষ নিঃস্ব হয়েছেন। বাকিরা হারানোর ভয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

বিগত দুই সপ্তাহের নদী ভাঙনে দৌলতদিয়ার ব্যস্ততম ঘাট এলাকার লঞ্চ ও ৩টি ফেরিঘাট ভাঙনের কবলে পরেছে। যে কারনে ১ , ২ ও ৩ নম্বর ফেরি ঘাটের পারাপার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ৪ নম্বর ফেরি ঘাটটিও ভাঙনের কবলে পড়েছে তাই এ ঘাটের পারাপারও বন্ধ রেখেছে কতৃপক্ষ। বাকি দুটি ফেরিঘাট দিয়ে কোনোরকমে খুঁড়িয়ে চলছে যানবাহন পারাপার।

ফেরিঘাট নষ্ট ও ঠিকমতো ফেরি চলাচল না করায় এ পথের চালক ও যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। আর নদী ভাঙনের কারণে নিঃস্ব হচ্ছেন এলাকাবাসী। গত দুই সপ্তাহের নদী ভাঙনে দৌলতদিয়া ও দেবগ্রামের প্রায় হাজারো পরিবার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। চোখের সামনে ফেরিঘাট ও এর আশপাশের এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছুই করতে পারছে না কতৃপক্ষ। হুমকিতে পড়েছে পুরো দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা। আর এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে সবার মনে।

ট্রাক চালকরা জানান, দৌলতদিয়া দিয়ে নদী পার হয়ে তারা রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে মালামাল পরিবহন করে থাকেন। কিন্তু নদী ভাঙন ,তীব্র স্রোত ও ফেরি কম চলায় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৫/১৬ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ মোড়-কুষ্টিয়া ও গোয়ালন্দ মোড়-ফরিদপুর সড়কে আটকে রেখেছে প্রায় ৪ থেকে ৫ শত ট্রাক। ৪ থেকে ৫ দিন ধরে আটকে থাকা এলাকায় যেখানে নাই কোনো দোকান পাট, খাবার সু-ব্যবস্থা ও টয়লেটের। যে কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যয় পড়েছেন তারা। এভাবে সড়কে আটকে নানাবিধ সমস্যা হওয়াসহ বেড়ে যাচ্ছে তাদের পরিবহন খরচ। দ্রুত তারা এ সমস্যার সমাধান চান। এ দিকে পুলিশকে টাকা দিলে আগে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করেন চালকেরা। টাকা না দিলে বসে থাকতে হচ্ছে দিনের পর দিন। আর এতে ভোগান্তি ও দুর্ভোগ বেড়ে যাচ্ছে অনেকের।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, ফেরিঘাট রক্ষায় তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু স্রোতের গতিবেগ ও পানিতে ঘূর্ণন অনেক বেশি। ফলে ভাঙন ছড়িয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। কাজ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলেছি। ভাঙনে ১ নম্বর ঘাটের ১০/১৫ মিটার রাস্তা বিলীন হলেও ঘাট রক্ষা করতে পেরেছেন বলে দাবি করেন। এখন ২ নম্বর ঘাটে বেশি ভাঙন শুরু হওয়ায় সেখানেও কাজ করছেন। আশা করছেন এ ঘাটটির ভাঙন ঠেকাতে পারবেন।

সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি সালমা চৌধুরী রুমা বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে যে ভাঙন হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ ভাঙন রক্ষায় কাজ করছেন দিন রাত। নদী ভাঙন রক্ষায় প্রধান মন্ত্রী ভাঙন রোধে নির্দেশনা দিয়েছেন। ঘাট এলাকায় যে ভাঙনে পড়ে এলাকাবাসী নিঃস্ব হচ্ছেন তিনি তার সামর্থ অনুযায়ী ভাঙন কবলিতদের পাশে থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

ওডি/এসএইচএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড