• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

মহানন্দায় ভয়াবহ ভাঙন : ত্রাণ নয়, বাঁধ চান এলাকাবাসী

  মো.তারেক রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

০৮ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৪৫
মহানন্দা নদীর তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে
মহানন্দা নদীর তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে (ছবি : দৈনিক অধিকার)

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদীতে গত কয়েকদিন ধরেই অব্যাহতভাবে পানি কমছে। এতে নদীর সদর ও গোমস্তাপুর উপজেলার পাঁচটি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের নয়াদিয়াড়ী শিরোটোলা মসজিদ পাড়া থেকে দেবীনগর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে দুটি ওয়ার্ডের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। 

স্থানীয়রা জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফারাক্কার সব কয়টি গেট খুলে দেওয়ার পর হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পায় পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে। এতে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মানুষ। টানা চার দিন পানি বৃদ্ধির পর আবারও পানি কমতে শুরু করে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে শুরু হয় তীব্র ভাঙন। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর পাঁচটি পয়েন্টে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।  

নয়াদিয়াড়ী এলাকার ৭০ বছর বয়সী মাহাতা খাতুন বলেন, ‘আগে আমাদের বাড়ি ছিল নদী থেকে অনেক দূরে। একবার নদীতে সব চলে গেছে। এখন যেখানে বাড়ি করেছি, নদী কাটতে কাটতে এখন সেখানে চলে এসেছে। আমরা গরিব মানুষ। এবার নদীতে সব চলে গেলে আমাদের কী হবে! আমরা কিছু চাই না, তোমরা আমাদের নদীটায় বাঁধ দাও।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার জানান, সদর উপজেলার দেবীনগর, কালিনগর এবং গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ি, চৌডালা, বাঙ্গাবাড়ি, কাশিয়াবাড়ি চলছে নদী ভাঙন। এসব এলাকায় প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি ও আম বাগান। এরই মধ্যে ৫০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে শতাধিক বাড়িঘরসহ ফসলি জমিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। গোমস্তাপুরের নয়াদিয়াড়ি এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবে মাটির বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছেন। 

গোমস্তাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন মণ্ডল জানান, গোমস্তাপুর ইউনিয়নের নয়াদিয়াড়ীতে ৫০ বছর ধরেই মহানন্দা নদীতে ভাঙন চলছে। সেই সঙ্গে ৫শ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ফলে চরম হুমকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী মানুষ। দুটি জামে ও ৪০টি ওয়াক্তিয়া মসজিদসহ ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় আট হাজার বাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে ভাঙনের বিষয়ে জানানো হলেও কার্যত তাদের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, গত ছয় দিন ধরে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর পানি কমতে শুরু করায় কয়েকদিনের মধ্যেই প্লাবিত এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে ভাঙন প্রতিরোধে গোমস্তাপুর ইউনিয়নে ভাঙন কবলিত এলাকায় মহানন্দা নদীতে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।  

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড