• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

  মাদারীপুর প্রতিনিধি

০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৬
বিদ্যুৎ
প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে-ঘরে বিদ্যুৎ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয়নি। এদিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের চর আলীমাবাদ গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারকে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ-লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেখানে বিদ্যুৎ অফিস সংযোগ প্রতি ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জনিত জামানত বাবদ ৪৫০ টাকা করে নিচ্ছে। আর সেখানে স্থানীয় একটি দালাল চক্র উত্তোলন করেছেন মোটা অঙ্কের অর্থ। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া ইউনিয়নের চর আলীমাবাদ গ্রামে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এবং মাদারীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সমন্বয়ে বিদুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য কাজ শুরু করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জিএন্ডজি এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ওই গ্রামের ইউপি সদস্য মো. শহিদুল শিকদার ও তার সহযোগী মোশারফ ফকিরের বিরুদ্ধে প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ ৫শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মোশারফ ফকির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাব-কন্ট্রাক্টর সুজন মিয়ার কাছেও দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। 

এ চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় সুজন ও তার সহযোগীদের মোশারফ তার লোকজন নিয়ে মারধর করেন। যার ফলে দীর্ঘ ৬ মাস চলমান কাজ বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বন্ধ রাখে। এদিকে মিটার প্রতি চাঁদা দিয়েও সময় মত বিদ্যুৎ সংযোগ না পেয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রামবাসীর। এ ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।  কিন্তু এ লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পায়নি এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী মো. বাবুল ফকির, মো. কবির ফকির, জাকির ফকির, শেফালী বেগম ও বিউটি আক্তার জানান, পল্লী বিদ্যুতের নতুন লাইনে কাজ করার সময় শহিদুল মেম্বার প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে ৫শ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। তার লোক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকদের কাছেও চাঁদা দাবি করে এবং মারধর করে। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬ মাসের বেশি সময় কাজ বন্ধ রাখে। কিছুদিন আগে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শুরু করে। কিন্তু আমাদের গ্রামবাসীর কাছ থেকে যে চাঁদা তুলে নিয়েছে তার কোনো প্রতিকার আমরা পায়নি। আমরা ইউপি মেম্বার ও তার সহযোগীর শাস্তির দাবি জানায়। 

অভিযুক্ত কয়ারিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি বা আমার কোনো সহযোগী পল্লী বিদ্যুতের লাইন টানার সময় কোনো টাকা নেয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর এজিএম পারভেজ আলম বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা ওই এলাকায় গিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। তদন্তের জন্য বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে। শীঘ্রই আমরা তদন্ত রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাছে জমা দিতে পারবো। আমি কয়েক দিন আগে দেখে এসেছি ৫৬৪ জন গ্রাহকের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। কাজ চলমান রয়েছে। বাকিরা খুব শীঘ্রই সংযোগ পেয়ে যাবে। 

ওডি/এসজেএ 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড