• রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৭ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

দুর্গম পাহাড়ে আলোর ঝলকানি

  মো. নুরুল করিম আরমান, লামা, বান্দরবান

২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৫
লামার কেয়াজুপাড়া বাজারে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি
লামার কেয়াজুপাড়া বাজারে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি (ছবি : দৈনিক অধিকার)

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি সরই ইউনিয়নের একটি জমজমাট বাজারের নাম কেয়াজুপাড়া। কিন্তু সন্ধ্যা নামলে অন্ধকারে ঢেকে যেত জনবহুল এই বাজারটি। তখন হারিকেন, কুপি বাতি বা মোমের আলো জ্বালিয়ে বেচা-কেনা করতেন দোকানিরা। সন্ধ্যার পর অন্ধকার ভূতড়ে পরিবেশ বাজারের দোকানিসহ স্থানীয়দের শঙ্কিত করে তুলত। কিন্তু সেই দিন পাল্টে গেছে রাতারাতি। চারদিকে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানিতে বাজারটিকে এখন মনে হচ্ছে কোনো এক মফস্বল শহর। 

শুধু বাজার নয়, সন্ধ্যা নামলে এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে কেয়াজুপাড়া আশপাশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকা। এই প্রকল্পের প্রাথমিকভাবে ৫শ গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছেন। পরবর্তীতে আরো প্রায় ৭শ গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন। এছাড়া ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকার কাজ চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির একান্ত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
   
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লামা উপজেলা সদর থেকে উত্তর দিকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত সরই ইউনিয়নের ক্যয়াজুপাড়া বাজার। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ বাজার ফান্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন এ বাজারটি। এখানে বিভিন্ন কোম্পানির বাণিজ্যিক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন দুশতাধিক ফলদ ও বনজ বাগান, গরু ও মৎস্য খামারসহ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা সংলগ্ন হওয়ায়, সেখানে সমতল ভূমির অনেক মানুষের যাতায়াত রয়েছে দীর্ঘ দিন ধরে। এসবকে কেন্দ্র করে বাজারটি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণিত হয়। ফলে নিত্য-নতুন মানুষের আগমন ঘটে এই বাজারে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে সেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছানি। এতে সন্ধ্যা নামলেই ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হতো বাজারটি। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চুরি ডাকাতির মতো ঘটনাও ঘটত সেখানে। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং ২০১৬ সালে সরই ইউনিয়ন সফরে গিয়ে এলাকাকে বিদ্যুৎতায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। সে মোতাবেক অল্প সময়ের মধ্যেই দুর্গম পাহাড়ি সরই ইউনিয়নকে বিদ্যুতের আওতায় আনেন তিনি। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে সুইচ অন করে এ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনও করেন তিনি। বিদ্যুতের ছোঁয়া লাগার সঙ্গে সঙ্গে কেয়াজুপাড়া বাজারটি মফস্বল শহরের রূপ ধারণ করে। বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। 

তাছাড়াও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান, কৃষি খামার, সেচযন্ত্র বিদ্যুতের আওতায় আসছে ক্রমেই। ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি বহুতল বিশিষ্ট শপিং মল। শপিং মলগুলোতে গ্রাহক সমাবেশও সন্তেষজনক বলে জানান বাজার ব্যবসায়ী মো. সেলিম উদ্দিন ও মইন উদ্দিন। মৎস্যখামারী আবদুর রহিম এবং একই এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. রফিক জানায়, স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এই প্রথমবারের মতো সরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তাদের স্বপ্নপূরণ হয়েছে। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল বহুক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব বলেও জানান তারা।
 
স্থানীয় বাগান ম্যানেজার মো. আরিফ, মো. হারুনসহ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. নুরুল আলম জানান, বিদ্যুতায়নের ফলে মানুষের জীবনমান উন্নতির পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে। এ জন্য ইউনিয়নবাসী পার্বত্য মন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।
 
এ বিষয়ে সরই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উল আলম ও  ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস কোম্পানী বলেন, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুরের একান্ত প্রচেষ্টায় দুর্গম সরই ইউনিয়নে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুতায়নের ফলে এখন সন্ধ্যা নামলে আলোকিত হয়ে ওঠে বাজারসহ আশপাশের এলাকা। ইউনিয়নের যেসব ওয়ার্ড এখনো বিদ্যুতের আওতায় আসেনি, সেসব ওয়ার্ডেও বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে।
  
সরই ইউনিয়নে বিদ্যুতায়নের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল বড়ুয়া বলেন, সরই ইউনিয়নে বরাদ্দ মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবাহের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইউনিয়ন সদরের ক্যাজুপাড়া বাজারসহ পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩শ গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান সাপেক্ষে আরও প্রায় ৭শ গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

 

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড