• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

সেলিনাকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বেল্লাল

  যশোর প্রতিনিধি

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৪৬
আদালত
যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (ছবি : দৈনিক অধিকার)

যশোর সদরের কেফায়েতনগর গ্রামের আলোচিত সেলিনা বেগমকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন কাঠ মিস্ত্রি বেল্লাল হোসেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সেলিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে না করায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। 

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক জবানবন্দী শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। 

গ্রেফতারকৃত বেল্লাল হোসেন খুলনার ফুলতলা উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামের মোহাম্মদ মোল্যার ছেলে। বর্তমানে তিনি অভয়নগরের শংকরপাশা গ্রামের বুলবুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

বেল্লাল হোসেনের জবানবন্দির কথা উল্লেখ করে পুলিশ সাংবাদিকদের জানান, ছোট বেলা থেকে তিনি কাঠ মিস্ত্রির কাজ করেন। প্রথমে অভয়নগরের দেয়াপাড়া গ্রামে জরিনা নামে একজনকে বিয়ে করেন। ৪ থেক ৫ বছর পর পারিবারিক বিরোধে জরিনা তাকে তালাক দেয়। এরপর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে শরিফা খাতুন নামে আরেকজনকে বিয়ে করেন। সেখানে ১৬ থেকে ১৭ বছর সংসার করার পরে শরিফা স্ট্রোক করে মারা যায়। সেই ঘরে দুইটি মেয়ে আছে। 

এরপর আবারও বিয়ে করার জন্য বেল্লাল হোসেন ঘটকের মাধ্যমে মেয়ে দেখছিলেন। এক ঘটকের মাধ্যমে সদর উপজেলার কেফায়েতনগর গ্রামের আনসার আলীর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সেলিনা বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। সেলিনার সঙ্গে তার প্রায়ই মোবাইলে কথা হতো। ঘটনার দিন ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বেল্লালকে তার বাড়িতে আসতে বলে সেলিনা। সন্ধ্যার পরে সেলিনার বাড়িতে এসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের দুইজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর বেল্লাল বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেলিনাকে বিয়ে না করলে তাকে যেতে বাধা দেয়। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সেলিনাকে ধাক্কা দেয় বেল্লাল। সেলিনা ঘরের দরজার পাশে পরে ইটে মাথা লেগে কেটে যায়। সেলিনার গলায় শাড়ি পেঁচানো ছিল। বেল্লাল সেই শাড়ি টেনে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর সেলিনার মোবাইল নিয়ে বেল্লাল হোসেন পালিয়ে চলে যায়। পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে লোক মারফত বেল্লাল শুনতে পায় সেলিনা মারা গেছে। 

সেলিনার মোবাইলটি নিয়ে বেল্লাল তার ভাগ্নে আরিফুলের কাছে দেয়। আরিফুল ওই মোবাইল ব্যবহারকালে পুলিশের হাতে মোবাইলসহ আটক হয়। আরিফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে বেল্লালকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। 

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর রাতে অপরিচিত ব্যক্তিরা সেলিনা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরদিন নিহতের ছেলে সোহেল রানা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তে দায়িত্ব পায়। তদন্তকালে পুলিশ সেলিনার মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ধরে সেলিনার ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করে। এরপর বেল্লাকে আটক করে রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে সোপর্দ করে। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড