• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৮ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়েও সরকারি চাকরিতে বহাল

  বগুড়া প্রতিনিধি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৪৪
উপসহকারী প্রকৌশলী
বগুড়ার ইউএনও কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান (ছবি : দৈনিক অধিকার)

আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ার পরও চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন বগুড়ার এক উপসহকারী প্রকৌশলী। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে, এ বিষয়ে অবগত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা। 

দণ্ডিত ওই ব্যক্তি হলেন- বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান। 

আদালতের রায়কে ব্যক্তিগত মামলার রায় উল্লেখ্য করে মামলার বাদীর সঙ্গে আপোষ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সদর উপজেলার চাদমুহা হরিপুর এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলামের কাছে তিন লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন প্রকৌশলী মেহেদী হাসান। এর বিপরীতে তাকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে ব্যাংক এশিয়া বগুড়ার শাখার একটি চেক প্রদান করেন মেহেদী হাসান। একই বছরের জুন মাসের ১২ তারিখে পাওনাদার চেক নিয়ে ব্যাংকে গেলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি প্রত্যাখ্যান (ডিজঅনার) করে। পরবর্তীতে পাওনাদার রফিকুল ইসলাম টাকা না পেয়ে লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। 

এ মামলায় শুনানি শেষে বগুড়া জেলার যুগ্ম দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন মেহেদী হাসানকে চলতি বছরের ২১ জুলাই এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। 

মামলাটির রায়ে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করায় তাকে সাজা ও জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি মেহদী হাসান জুলাই মাসের ২৮ তারিখে চেকের দাবিকৃত টাকার অর্ধেক চালান মূলে ব্যাংকে জমা দিয়ে গত ৬ আগস্ট জামিন নিয়েছেন।

এ দিকে, মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও চাকরিতে বহাল তবিয়তে থাকায় উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সচেতন মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তাদের অনেকের অভিযোগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মেহেদী হাসান। এছাড়া টাকার বিনিময়ে প্রকল্প পাইয়ে দেওয়াসহ চাকরির তদবির করেন মেহেদী এমন তথ্যই জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদে যাতায়াতকারী বিভিন্ন ব্যক্তি।

এ ব্যাপারে দণ্ডিত উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় ও মামলা থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, এসব মামলার বাদীর সঙ্গে আপোষ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত কারণে লেনদেন হয়েছে, সে কারণেই মামলা। এর সঙ্গে চাকরির কোনো সম্পর্ক নেই। 

বগুড়া অঞ্চলের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সাবেক জিপি ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাজাহান আলী তালুকদার জানান, ফৌজদারি মামলায় কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে দণ্ড হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ জানান, সরকারি চাকরিজীবী কোনো মামলায় যদি দণ্ডপ্রাপ্ত হয়, তা অবগত হলে তার বিরুদ্ধে চাকরিবিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, দণ্ডিত উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা চলমান রয়েছে আদালতে। সদর উপজেলার চাদমুহা হরিপুর এলাকার মৃত মহিনী রঞ্জন সরকারের ছেলে পলাশ সরকার তিন লাখ টাকা দাবি করে একই ধারাতে মামলা করেছেন।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড