• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৬ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

আনোয়ারায় ৮ মাসে কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেফতার ১১০

  জাহাঙ্গীর আলম, আনোয়ারা, চট্টগ্রাম

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:৩২
আনোয়রা থানা
আনোয়রা থানা (ছবি: সংগৃহীত)

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পুলিশের অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আনুমানিক এক কোটি টাকার ইয়াবা ও আট লাখ টাকার দেশি-বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ইয়াবা পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে ১১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এছাড়াও ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, ছয়টি কার্তুজসহ গাঁজা ও বিদেশি মদ জব্দ করেছে পুলিশ। এসব ঘটনায় আনোয়ারা থানায় ৯১টি মামলা হয়েছে। আর এসব মামলার ১৩০ জন আসামির মধ্যে ১১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক ইয়াবার চালান আটক হলেও এর পেছনে জড়িত গডফাদাররা প্রতিবারেই থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এসব গডফাদাররা মাদক কারবারের সুবিধার্থে সরকারি দলের পদ-পদবি ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে আনোয়ারা উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্ট। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আনোয়ারায় ঢোকে সর্বনাশা ইয়াবা। 

পয়েন্টগুলো হচ্ছে- উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা বাঁচা মাঝির ঘাট, উঠান মাঝির ঘাট, দোভাষী বাজার ঘাট, ছিপাতলী ঘাট, গলাকাটার ঘাট, বার আউলিয়ার ঘাট, দক্ষিণ গহিরা ঘাটকূল, পূর্ব গহিরা তেলিপাড়া, পরুয়াপাড়া বাতিঘর, পারকি সমুদ্র সৈকত, জুঁইদন্ডী শঙ্খপাড় ও তৈলারদ্বীপ ফেরিঘাট। আর সেখান থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন সড়ক ও নৌপথে এসব ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। 

সূত্র জানায়, আনোয়ারা থানা পুলিশের তৎপরতায় মাদকের বড় বড় চালান অনেকটাই কমে এসেছে। সেই সঙ্গে গত আট মাসে খুচরা বিক্রেতাদের ব্যাপারে পুলিশ কঠোর হলে ইয়াবা পাচার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। 

অভিযোগ রয়েছে, এর আগে বড় বড় ইয়াবার চালান আটক হলেও বরাবরের মতোই এ কারবারের সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে আড়ালে। গত এক বছরে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর ফলে তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারিদের অধিকাংশ ধরা পড়েছে। বাকিরা বেশ কিছুদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছে। তাদের মধ্যে- ইউসুফ ওরফে কালা মনু, মো. ফয়েজ, হাসান মাঝি, ইদ্রিস ওরফে কালু, আনোয়ার, মামুন, ইউছুফ, বদরুজ্জামান ওরফে ফট্টিবদ ও সোলেমান মানুসহ আরও অনেকে আড়ালে থেকে পুনরায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ দিকে, জেল ফেরত অনেকে নতুন করে এ কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তবে নৌপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে সড়ক পথকে বেছে নিয়ে ইয়াবা পাচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এমনিভাবে গত ১৬ আগস্ট উপজেলার চাতরী চৌমহনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯ হাজার ৪শ পিস ইয়াবাসহ মো. রেজোয়ান (১৮) ও নুরুল বাসেদ (৩২) নামের দুজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭-এর একটি দল।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ জানান, গত ৮ মাসে পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক এক কোটি টাকার ইয়াবাসহ ১শ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। ইয়াবা পাচার বন্ধে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। তারপরও কিছু পাচারকারী অভিনব কৌশলে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে তাদের রুট পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে কিন্তু পুলিশ হাল ছাড়েনি। ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সব ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাবে। 

ওডি/ এফইউ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড