• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

চুয়াডাঙ্গায় আ. লীগের দুপক্ষে সংঘর্ষ, পুলিশের লাঠিচার্জ

  সারাদেশ ডেস্ক

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৩৪
সংঘর্ষ
আওয়ামী লীগের দুপক্ষে সংঘর্ষ। (ছবি : নিজস্ব)

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর গ্রামে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাসের গাড়ি বহরে হামলা চালায় একটি পক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে স্থানীয় মোমিনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সন্মেলনকে কেন্দ্র করে এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের জন্য রবিবার  বিকালে স্থানীয় একটি ক্লাব মাঠে সন্মেলন আহ্বান করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাস ও পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু সমর্থিত নেতাকর্মীরা। কয়েকদিন ধরেই সন্মেলন সফল করতে নানাভাবে প্রচার প্রচারণাও চালানো হয়।

কিন্তু রবিবার সকালে একই স্থানে হঠাৎ করে জনসভা আহ্বান করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের সমর্থকরা। এরপরই দুই পক্ষের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তাপ ছড়াতে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ দুপুরের কিছু আগে ক্লাবের ওই মাঠে সব ধরনের সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন। এরপরও দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

খবর পেয়ে দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। এ সময় তিনি দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। 

পরে আশাদুল হক বিশ্বাস-জিপু চৌধুরীর সমর্থকরা জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দারের বাস ভবনের পাশে সন্মেলনের অনুমতি পাই। একইভাবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের অনুসারী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান নান্নু ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী শেফালী খাতুন পক্ষের নেতাকর্মীরা মোমিনপুর রেল স্টেশনের প্লাটফর্মের উপর জনসভার মৌখিক অনুমতি পান। বিকাল সাড়ে ৩ টার পরই দুই পক্ষ তাদের কর্মসূচি পালন শুরু করেন।

এ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশাদুল হক বিশ্বাসের গাড়িবহর সন্মেলন স্থলে (তাদের পক্ষের) যোগ দিতে মোমিনপুর রেলক্রসিং এর কাছে পৌঁছালে প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মিরা ক্রসিং এর গেট বন্ধ করে গাড়িবহর আটকে দেয়। এরপরই তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তার বহরে থাকা নেতাকর্মিদের প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে দুই পক্ষকেই ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার পর গোটা ইউনিয়ন জুড়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অবশ্য পুলিশি বেষ্টনির মধ্যে দুই পক্ষই তাদের কর্মসূচি পালন করেন।

স্থানীয় মোমিনপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষকলীগের সভাপতি গোলাম ফারুক জোয়ার্দ্দার অভিযোগ করেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ সন্মেলন বানচাল করতেই সন্মেলনের প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাসের গাড়ি বহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। যা পুলিশ ও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলে তাদেরকে হটিয়ে দেয়।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান নান্নু। তিনি জানান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমি নিজেই। তাছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির অনুমতি না দিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে কেন মোমিনপুর ইউনিয়নের সন্মেলন করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আশাদুল হক বিশ্বাসের গাড়ি বহরের সামনে যাই আমরা। কিন্তু তার সাথে থাকা সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাতে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যারা জাতীয় প্রতীক নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোট করেছিল তাদের নির্দেশেই আমার গাড়ি বহরে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে নৌকা প্রেমিক দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা তাদের প্রতিহত করে। তিনি দাবি করেন, চুয়াডাঙ্গা আওয়ামী লীগ আর কোনো পরিবার বা ভাই লীগের মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। আর এ কারণেই প্রকৃত নৌকা প্রেমিকদের নিয়ে আমরা গ্রামে গঞ্জে কমিটি গঠন করে দলকে সুসংগঠিত করছি।

উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত। এদের একটির নেতৃত্ব দেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি ও অপরটির নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশাদুল হক বিশ্বাস ও পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু। 

ওডি/টিএএফ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড