• শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

যশোরে ডেঙ্গুতে ১৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৩০০

  যশোর প্রতিনিধি

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:২১
ডেঙ্গু রোগী
হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী। (ছবি : সংগৃহীত)

প্রতিদিনই যশোরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২ হাজার ৩শ জন আক্রান্ত হয়েছে। ঢাকার বাইরে যশোরে তিনটি কারণে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ মনে করছে।

ডেঙ্গুতে ১৫ জনের মৃত্যু হলেও যশোর সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়েছে ডেঙ্গুতে মারা গেছে মাত্র ৭ জন।

যশোরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২১ জুলাই নড়াইলের কুড়িগ্রামের রোকসানা পারভীন রানী (৫২), মণিরামপুর উপজেলার ২৪ জুলাই ঝাপা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে শুকুর আলী, ১৩ আগস্ট মধুপুর গ্রামের আসাদুল্লাহর ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আরিফ, ২০ আগস্ট আম্রঝুটা গ্রামের শ্রমিক আব্দুল গফফার, ২৭ আগস্ট রাজবাড়ী এলাকার সেকেন্দার আলীর স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৫৫), ১০ সেপ্টেম্বর আবদুল কাদেরের স্ত্রী জাহিদা বেগম, ১১ সেপ্টেম্বর মশ্বিমনগর গ্রামের ইনতাজ আলির স্ত্রী জাহানারা বেগম, ১২ সেপ্টেম্বর সালামত পুরের আব্দুর রাজ্জাক দফাদারের স্ত্রী মেহেরুন নেছা মারা যান।

যশোর সদর উপজেলার বানিয়াবহু গ্রামের লালমিয়িা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাঘারপাড়া উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম, একই গ্রামের মৃত বাবর আলির স্ত্রী মাঝু বিবি, শাহাজাহান আলি ও রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোহাগের ৫ বছরের শিশু কন্যা শ্রাবন্তী । এছাড়া কেশবপুরে মারা যান বরণডালি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস গাজি ও চৌগাছার বাঘারদাড়ি গ্রামের মৃত সদর আলির পুত্র ওয়াদুদ।

যশোরের তিনটি উপজেলায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা, যোগাযোগের ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুবিধা বেশি থাকায় রোগীরা ভিড় জমান বলে স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বেড়েছে।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রথম দিকে ঢাকা থেকেই আক্রান্ত রোগী বেশি আসে। মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত জলাবদ্ধতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ডেঙ্গু রোগী বেশি হওয়ার কারণ। তাছাড়া ভালো চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে যশোরের বাইরে মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল এবং সাতক্ষীরা থেকেও রোগীরা যশোর জেনারেল হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসেন। আক্রান্ত রোগী ও এডিস মশার বিস্তারের কারণে এখন স্থানীয়রাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, তিনটি উপজেলায় (অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর) স্থায়ী জলাবদ্ধতা, যশোর এলাকা ট্রানজিট পয়েন্ট হওয়ায় এবং উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন জেলার রোগীরা ভিড় করায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে অতি সম্প্রতি থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত জলাবদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বড় ধরনের বৃষ্টি হলে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হতো না। তবে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় সমস্যা বাড়ছে। জলাবদ্ধতা এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

ওডি/এসএইচএস

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড