• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩০ °সে
  • বেটা ভার্সন

জনবল সঙ্কটে নিষ্প্রাণ প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল

  কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২২
প্রাণিসম্পদ অফিস
ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস (ছবি : দৈনিক অধিকার)

জনবল সঙ্কটের অভাবে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গবাদি পশুর চিকিৎসায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাণিসম্পদ অফিসের আটটি পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার লক্ষাধিক হাঁস মুরগী ও গবাদিপশু। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গরু-ছাগল, মহিষ-ভেড়া, হাঁস-মুরগি, কোয়েল-কবুতরসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশুপাখির মালিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা। উপজেলাজুড়ে তিনটি পশু উন্নয়ন কেন্দ্র থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকবিহীন পড়ে আছে অফিসগুলো। 

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসকে ম্যানেজ করে ধারনবাজার সংলগ্ন সৈদেরগাঁও পশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ভবনে দীর্ঘদিন যাবত হুমায়ুন নামে এক হাতুড়ে পশু ডাক্তার সপরিবারে বসবাস করে আসছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল দুরে হওয়ায় আবার অনেকেই চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে এ হাতুড়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। গবাদি পশুর মালিকদের অভিযোগ, এতে করে তারা ভুল চিকিৎসায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ দিকে, কথিত এই পশু ডাক্তার সরকারি ভবনে সপরিবারে বসবাস করে কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই ডাক্তার সেজে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন ওষুধ বাণিজ্য পাশাপাশি হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালে মোট ১১টি পদের মধ্যে আটটিই দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডার ও এফএএআইসহ তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই চলছে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম। তালিকাভুক্ত গরু, মোরগ ও হাঁসের খামার, গবাদি পশুর সংখ্যা এবং উপজেলায় তিনটি উন্নয়ন কেন্দ্রের বিষয়ে জানতে পর পর তিন দিন মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও কোনো তথ্যই দিতে পারেননি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। অফিস সহকারী না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বার বার পরে কল দিতে বলে ফোন রেখে দেন তিনি।

স্থানীয় ক্ষুদ্র খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ হাসপাতালে কৃত্রিম প্রজনন, ছাগলের ঠাণ্ডা কাশিসহ ভ্যাক্সিন দিতে এক সময় প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১২০ জন খামারি ও গবাদি পশুর মালিকেরা সেবা নিতে আসতেন। বর্তমানে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে তাদের। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে অফিসে না আসাসহ দায়িত্বরত থাকা অবস্থায়ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করেন তারা। তারা বলেন, প্রায় ছয় বছর ধরে ভেটেরিনারি সার্জন ছাড়াই চলছে এ সরকারি পশু হাসপাতাল ভবনের সেবা কার্যক্রম। ফলে গবাদিপশু থাকার পরও চিকিৎসকের অভাবে গবাদি পশুর মালিকেরা ছুটছেন হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে। আর তাদের গলাকাটা ‘ফি’র শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে যেমন কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা ও অবহেলায় আগ্রহ হারাতে বসেছেন গবাদি পশু পালনকারীরা, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে এই হাসপাতালটির সরঞ্জামাদি। 

এ ব্যাপারে সৈদেরগাঁও পশু উন্নয়ন কেন্দ্রে অবস্থানরত হুমায়ুন বলেন, ‘আমি নিয়োগপ্রাপ্ত না। আমি ময়মনসিংহ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানেন আমি এই বাসায় আছি।’ এরপর বিকালে কথা বলবেন বলে তিনি মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। 

এ ব্যাপারে হুমায়ূনের মামা ডাক্তার আব্দুল কদ্দুছ নাম পরিচয় উল্লেখ করে বলেন, ‘সৈদেরগাঁও পশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আমি দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলাম। বর্তমানে মৌলভীবাজারে ডেপুটেশনে আছি। ওই বাসাটি বর্তমানেও আমার নামে বরাদ্দ রয়েছে। আমি মৌলভীবাজার আসার পর থেকে হুমায়ুন সেখানে থাকছে।’ তিনি বলেন, বাসাটি পরিত্যক্ত পড়ে থাকলে অপরাধীরা আশ্রয় কেন্দ্র করে নিবে তাই সেখানে হুমায়ুন থাকছে।

ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ মাসুদ করিম ছিদ্দিকী বলেন, এখানে ১১টি পদের মধ্যে আটটি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অফিস সহকারী নেই। তিনজন জনবল দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রাণিসম্পদের চিকিৎসা সেবা দিতে আমরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছি। তিনি জানান, এ উপজেলায় তিনটি উন্নয়ন কেন্দ্র থাকলেও কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। এ সময় ধারনবাজার সংলগ্ন সৈদেরগাঁও উন্নয়ন কেন্দ্রে হুমায়ুন নামে ওই ব্যক্তির ডাক্তার পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান খাঁন ডেপুটেশনে থাকা ডাক্তার আব্দুল কদ্দুছের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে বর্তমানে একজন ডাক্তার, একজন ভেটেরিনারি কম্পাউন্ডার ও একজন এফএএআইসহ তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে যদি কেউ সরকারি বাসা ব্যাবহার করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওডি/আইএইচএন

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড