• বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬  |   ২৩ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

হাত পাখা তৈরি করে স্বাবলম্বী হাজারো পরিবার

  রফিকুল ইসলাম রফিক, গাইবান্ধা

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:১৫
হাত পাখা
বাহারি রঙে বিভিন্ন নকশা খচিত হাত পাখা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

সুই-সুতা আর বাঁশ দিয়ে তৈরি হাত পাখা। এই ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুতের আসা যাওয়ার মাঝখানে একটু স্বস্তি পেতে হাত পাখার বিকল্প নেই। দেখা যায় ছোট বড় বাহারি রঙে বিভিন্ন নকশা খচিত হাত পাখা। এমন নিপুণ হাতের কারু কাজে তৈরি করা পাখা বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন গ্রামের কয়েক শত পরিবার। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে এখানকার মানুষ পাখা তৈরি শুরু করলেও খামারপাড়ায় লেগেছে শিল্পকর্মের ছোঁয়া। 

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে জামালপুর ইউনিয়ন। ইউনিয়নের বুজরুক গ্রামের খামারপাড়ায় তৈরি হয় হাত পাখা। গ্রামের নাম খামারপাড়া হলেও এলাকায় পাখার গ্রাম নামেই বেশ পরিচিত। শুধু এই গ্রামেই নয় একই উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের আরাজী ছান্দিয়াপুর গ্রামেও তৈরি হয় এই হাত পাখা। 

(ছবি : দৈনিক অধিকার)

হাত পাখা বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিক্রেতা (ছবি : দৈনিক অধিকার)

অভাবের ক্লান্তি ভুলে হাসিমুখে সমান তালে পাখা তৈরি করছেন এ গ্রামের নারী-পুরুষরা। সারাদিন বাঁশকাটা, চাক তৈরি, সুতা গোছানো, কাপড় কাটা, আবার কেউ সুই দিয়ে সেলাই করে রং বেরঙের নকশা তৈরি করছেন। গরম বেড়ে যাওয়ার কারণে পাখা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। 

দুই গ্রামে নারী-পুরুষ মিলে প্রতিদিন এক হাজার ২শ থেকে দেড়হাজার পর্যন্ত হাত পাখা তৈরি হয়। প্রতিটি পাখা তৈরি করতে তাদের সুতা, বাঁশের হাতল, কাপড় ও পারিশ্রমিকসহ প্রায় ১৭ থেকে ১৮ টাকা খরচ পড়ে। তৈরি করা পাখা পাইকারি এবং বিভিন্ন হাট-বাজারে, দোকানে এবং মেলায় বিক্রি করা হয় ২৩ থেকে ২৫ টাকায়। আগে এ গ্রামে অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও পাখা বিক্রির টাকায় ফিরেছে সচ্ছলতা। সংসার, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ অন্য সব খরচ আসে এ পাখা বিক্রির আয় থেকেই।

পাখার কারিগর মিলন বলেন, আগের চেয়ে আমাদের সংসার বেশ ভালোই চলছে। আমি প্রতি সপ্তাহে অন্য গ্রাম থেকে বাঁশ কিনে আনি। সেগুলো দিয়ে পাখার হাতল তৈরি করি। পাইকারিও বিক্রি করি আবার দোকানেও দিয়ে আসি। মাঝে মধ্যে কোথাও মেলা বসলে সেখানে পাখা নিয়ে বিক্রি করি। তারা জানান সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয়ভাবে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ঋণের সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে এখানে বড় ধরনের পাখা তৈরির কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব।

গাইবান্ধার বিসিক শিল্পনগরীর সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম জানান, হাত পাখা তৈরি ও বাজারজাত করণের বিপণ ব্যবস্থা তৈরি, প্রশিক্ষণ ও সহজে ঋণ প্রদানের ব্যাপারে চেষ্টা চলছে।

এ দিকে, হাত পাখার এ শিল্পকে বাচাতে ও সম্প্রসারণে এগিয়ে আসবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা গ্রামবাসীর। 

ওডি/এএসএল

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন  

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: 02-9110584, +8801907484800

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড