• বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬  |   ১৯ °সে
  • বেটা ভার্সন
sonargao

কক্সবাজারে মাদ্রাসায় গোলাগুলি

  কক্সবাজার প্রতিনিধি

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩
পুলিশ
মাদ্রাসাস্থলে পুলিশের অবস্থান (ছবি : দৈনিক অধিকার)

কক্সবাজারের রামুর ঐতিহ্যবাহী চাকমারকুল মাদ্রাসায় ফাঁকা গুলি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার ( ৯ সেপ্টেম্বর) দিকে এই ঘটনা ঘটে।  এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে মাদ্রাসার ছাত্ররা। অনেকেই নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তবে মুহূর্তের মধ্যে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এই ঘটনায় দাতা সদস্যদের জড়িয়ে মুহতামি সিরাজ গণমাধ্যমে সংবাদ দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন দাতা সদস্যরা। দাতা সদস্যরা অভিযোগ করছেন, মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম গোপন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

মাদ্রাসার ছাত্ররা জানান, সোমবার  মাগরিবের নামাজের ঘণ্টাখানেক পর মাদ্রাসার আঙিনায় হঠাৎ গুলির শব্দ হয়। পর পর তিন/চারটি গুলির শব্দ হলে মাদ্রাসায় থাকা ছাত্ররা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আতঙ্কে তারা দিকবেদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। আতঙ্কে বিপুল সংখ্যক ছাত্র মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। অনেকে মাদ্রাসার ভেতরে বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা মাদ্রাসায় ভাঙচুরও করে। তবে দ্রুত ঘটনাস্থলে রামু থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মাদ্রাসার দাতা সদস্যদের অভিযোগ, মাদ্রাসাকে কব্জা করে রাখা, নিজের অভিযোগের তদন্ত ভেস্তে দেয়া এবং দাতা সদস্যদের ফাঁসাতে মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম নানা ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এরই অংশ হিসেবে মাদ্রাসায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে দাতা সদস্যদের ওপর দায় চাপাতে চেষ্টা করে আসছে মুহতামিম। এই পরিকল্পিত অঘটন ঘটাতে গত দুইদিন আগে মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম তার ভাই চেয়ারম্যান নূরুল ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে মাদ্রাসায় একটি গোপন বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকে মাদ্রাসায় পরিকল্পিত হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে এই অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করেছেন মুহতামিম সিরাজুল ইসলাম। তার ভাই নূরুল আমিন সিকদারের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। এতে সহযোগিতা করেছেন রোহিঙ্গা ছাত্র ও মুহতামিম সিরাজের আজ্ঞাবহ কিছু ছাত্র। হত্যা, ডাকাতি ও চুরিসহ ৮ থেকে ১০টি মামলা পলাতক আসামি নূরুল আমিন সিকদার তার অবৈধ বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়েছেন। 

এ ব্যাপারে রামু থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রামুর চাকমারকুল মাদ্রাসায় মুহতামিম ও দাতা সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই সমঝোতা হয়নি। এরই অংশ হিসেবে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কারা এই গুলি ছুড়েছে তা স্পষ্ট হয়নি। এই নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা বলেন, ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গুলিবর্ষণ ও মারধরের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ ধরনের ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

ওডি/এসজেএ

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক: মো: তাজবীর হোসাইন সজীব 

 

সম্পাদকীয় কার্যালয় 

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড