• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬  |   ৩৪ °সে
  • বেটা ভার্সন

আদালতের নির্দেশ ছাড়াই ভিকটিমকে অভিযুক্ত পুলিশের মুখোমুখি

  সারাদেশ ডেস্ক

০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৪০
গৃহবধূ
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ (ছবি : ফাইল ফটো)

মামলা রেকর্ড করার আগে আলোচিত যশোরের শার্শার আসামির স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের এসআই খায়রুলকে ভিকটিমের মুখোমুখি করা আইন সঙ্গত হয়নি এবং পরবর্তীতে মামলার এজাহারে তার নাম না থাকাটা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যশোরের বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা। একইসঙ্গে আদালতের নির্দেশনা ছাড়া ভিকটিমের সাথে অভিযুক্ত কাউকে মুখোমুখি করার বিষয়টি আইন সঙ্গত হয়নি বলে মতামত দিয়েছেন তারা।

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা জানান, স্পর্শকাতর এসব ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশকে অধিকতর নিরপেক্ষ ও সতর্ক থাকার প্রয়োজন ছিল। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইদ্রিস আলী বলেন, কোনো মামলার ক্ষেত্রে আসামি ও ভিকটিমের মুখোমুখি করে যাচাই করার বিষয় পুলিশের একার নয়। এক্ষেত্রে পুলিশকে অবশ্যই আদালতের অনুমতি নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে যেটা করা হয়েছে সেটি আইন সঙ্গত হয়নি। 
তিনি আরও বলেন, যেকোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথে পুলিশ যাচাই-বাছাই করতে পারে। যেহেতু এ ঘটনার সাথে পুলিশ সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে তাই এটি অন্যভাবে করতে পারতো। একটু সতর্ককতার সাথে তদন্ত করলে ভালো হতো।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস বলেন, মামলা রেকর্ডের আগে পুলিশ অনেক সময় প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের জন্য কিছু পদক্ষেপ নিতে হয়। তবে ভিকটিম ও আসামিকে মুখোমুখি করার বিষয়টি ঠিক হয়নি। এটি আইন পুরোপুরি পারমিট করে না। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পুলিশ অন্যভাবেও যাচাই করতে পারতো এবং সে সুযোগ পুলিশের ছিল।

অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, আদালতের নির্দেশনা ছাড়া পুলিশ কোনোমতেই আসামি ও ভিকটিমকে মুখোমুখি করতে পারেন না। যশোরের শার্শার গৃহবধূ ধর্ষণের ক্ষেত্রে পুলিশ যা করেছে তা সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থী। এর মাধ্যমে মামলার সঠিক তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মানাবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয়কৃষ্ণ মল্লিল বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে ঘটনার সাথে যেহেতু পুলিশের জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে সেজন্য পুলিশ যাচাইয়ের জন্য ভিকটিমের মুখোমুখি অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকতাকে উপস্থিত করেছেন। তবে এ প্রক্রিয়ায় না করলে ভালো হতো। পুলিশের সাথে বিচার বিভাগের কাউকে উপস্থিত রেখে তদন্ত করলে অর্থ্যাৎ বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে এ বিতর্ক হতো না। এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় পুলিশকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শার্শার ওই গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার পরপর গোড়পাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খায়রুলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমানকে প্রত্যাহার করা
হয়।

মামলার তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দেয়ায় আজ সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর ) ঘটনাস্থল ও ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলতে যাচ্ছেন তদন্তকারী অফিসার এসআই মোনায়েম হোসেন। এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক তিনজনকে আজ সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রসঙ্গত, মাদক মামলায় আটক ব্যক্তিকে ৫৪ ধারায় চালানের কথা বলে আসামির বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর নিকট ২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে গোড়পাড়া ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুল ইসলাম। টাকা না দেয়ায় পুলিশ এবং সোর্স ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই গৃহবধূ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এসে ডাক্তারের কাছে এসে তিনি ধর্ষিত হয়েছেন এবং তাকে পরীক্ষার আবেদন করে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক জানাজানি হলে সাংবাদিকরা সেখানে যান এবং ধর্ষিতা গৃহবধূর বক্তব্য রেকর্ড করেন।

এ সময় তিনি বলেন, গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খায়রুল ও তার সোর্স কামরুলসহ চারজন তার বাড়িতে যায়। তারা ওই গৃহবধূর কাছে একটি মাদক মামলায় আটক স্বামীকে ৫৪ ধারায় চালান করার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই খায়রুল ও কামরুল তাকে ধর্ষণ করেন।

এ বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সুপার মঈনুল হকের নির্দেশে কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান ওই দিন দুপুরে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদের অনুমতি স্বাপেক্ষে ওই গৃহবধূকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় নিয়ে যান। ওই দিন রাতে পুলিশের এসআই খায়রুলকে বাদ দিয়ে বাকি তিনজনের নামে শার্শা থানায় ধর্ষণের মামলা করা হয়।

মামলা রেকর্ডের পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দীন শিকদারের কাছে প্রধান অভিযুক্ত গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি কেনো সাংবাদিকরা এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, ‘ভিকটিমের সামনে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে এসআই খায়রুলকে কয়েক দফা আনা হয়। কিন্তু তিনি খায়রুলকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন নি।’ এসব কারণে ধর্ষিতা মহিলা নিজেই এজাহারে তার নাম দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

গত শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি খায়রুল শুধু চিনি-ই নাই, ভালোভাবেই চিনি। আমাদের কাছ থেকে দফায় দফায় ৮ ও ৪ হাজার করে টাকা নিয়েছেন তিনি

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড