• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬  |   ২৯ °সে
  • বেটা ভার্সন

গড়ে ওঠার আগেই ভেঙে পড়ছে শ্রীপুরের গুচ্ছগ্রামের বসতঘর

  আব্দুর রউফ রুবেল, গাজীপুর

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৫২
গুচ্ছগ্রাম
নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে যাচ্ছে গুচ্ছগ্রামের বসতঘর (ছবি: দৈনিক অধিকার)

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নে আশ্রয়হীনদের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিভিআরপি প্রকল্পের আওতায় ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ কাজ মধ্য পথেই থমকে আছে। নির্মাণ কাজের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে গড়ে ওঠার আগেই ভেঙে পড়ছে আশ্রয়হীদের মাথা গোঁজার ঠাঁই।

সূত্র জানায়, গত ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম-২ পর্যায় (সিভিআরপি) প্রকল্পের আওতায় ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নে একটি গুচ্ছগ্রামের বসতঘর নির্মাণের বরাদ্দ আসে। এরপর উপজেলা প্রশাসন গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের জন্য ১০টি বসতঘর, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে। কিন্তু মধ্যপথে হঠাৎ প্রশাসনের রদবদল হওয়ায় থমকে যায় গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। এতে নির্মাণাধীন বসতঘর, ল্যাট্রিন ও রান্নাঘরের চাল ও বাঁশের বেড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে পড়তে থাকে।
 
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুচ্ছুগ্রাম নির্মাণ কাজ প্রতিদিন করা হয়নি। মাসে ১০ থেকে ১৫ দিন কাজ করা হয়েছে। আবার কয়েক মাস বন্ধ থেকে শুরু হয়েছিল নির্মাণ কাজ। এভাবেই ধীরে ধীরে নির্মাণ কাজ করার সময় বর্ষা ও কালবৈশাখী ঝড় সবই পেয়েছে মিস্ত্রিরা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বদলি হওয়ায় নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। 

গড়ে তোলার আগেই ভেঙে পড়ছে আশ্রয়হীদের মাথা গোঁজার ঠাঁই (ছবি: দৈনিক অধিকার)

নতুন উপজেলা নিবার্হী অফিসার শেখ শাসুল আরেফিন গত জুন মাসে যোগদান করেন। এরপরও তিন মাসেও নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। গুচ্ছুগ্রাম নির্মাণ, তদারকি ও ঘর বরাদ্দ দেওয়ার কমিটি করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহ্বায়ক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সদস্য সচিব ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খাস জমিতে আশ্রয়হীনদের জন্য দুপাশে পাঁচটি করে দুটি সাড়িতে গুচ্ছগ্রামের ১০টি নির্মাণাধীন ঘর পড়ে রয়েছে। প্রথমে ঢুকতেই দেখা যায় কয়েকটি ঘর বাতাসে হেলে পড়েছে। ঘরে ঢেওটিনের বেড়াগুলো বাতাসে খুলে পড়েছে। একটু সামনে যেতেই চোখে পড়ে বারান্দায় বাঁশের তৈরি বেড়াগুলো বাতাসে উড়ে গেছে। লোহার রডে ঢেওটিন দেওয়া চালের এক পাশ বাতাসে বেঁকে ওপরে উঠে গেছে। এছাড়া বেশির ভাগ ল্যাট্রিনে দরজা ভেঙে পড়েছে। মাটিতে পড়ে থাকায় লোহার রডে মরিচা ধরেছে। কোথাও টিন খুলে পড়ে আছে, এক কথায় বলা যায় গড়ার আগেই ভেঙে পড়ছে আশ্রয়হীদের মাথা গোঁজার ঠাঁই।

এ সময় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণের আগেই ভেঙে পড়ছে ঘরগুলো।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ শামসুল আরেফিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বদলি হওয়ায় কাজের সামান্য বিলম্ব হয়েছে। খুব দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। যদি নিম্নমানের কোনো নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকে তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সেই সঙ্গে সঠিক মান বজায় রেখে গুচ্ছগ্রামের বসতঘরগুলো নির্মাণ করে দ্রুত তা আশ্রয়হীনদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ওডি/ এফইউ
 

আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দৈনিক অধিকারকে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো: তাজবীর হুসাইন

১৪৭/ডি, গ্রীন রোড, ঢাকা-১২১৫।

ফোন: ০২-৯১১০৫৮৪

ই-মেইল: [email protected]

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by : অধিকার মিডিয়া লিমিটেড